ভয়ংকর সুন্দর ১০ স্থান যেখানে অ্যাডভেঞ্চার মানেই সাক্ষাৎ মৃত্যু
প্রকৃতি যেমন তার রূপ ও সৌন্দর্যে মানুষকে মুগ্ধ করে, তেমনই কিছু স্থানে সে ধারণ করে এক সংহারী রূপ। সাধারণ মানুষের কাছে ভ্রমণ মানে মানসিক প্রশান্তি হলেও রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকে পৃথিবীর এমন কিছু দুর্গম অঞ্চল, যেখানে পা রাখা মানেই জীবন বাজি রাখা। ইউক্রেনের পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা থেকে শুরু করে ব্রাজিলের বিষধর সাপের দ্বীপ— বিশ্বের এই ১০টি স্থান বর্তমানে ‘ভয়ংকর সুন্দর’ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিষাক্ত পরিবেশ ও চরম তাপমাত্রা
বিপজ্জনক স্থানের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ইউক্রেনের চেরনোবিল। ১৯৮৬ সালের ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনার রেশ কাটিয়ে আজও সেখানে রয়ে গেছে প্রাণঘাতী তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি। অন্যদিকে, আমেরিকার ‘ডেথ ভ্যালি’ বা মৃত্যু উপত্যকা তার অসহনীয় তাপমাত্রার জন্য কুখ্যাত। ১৯৭২ সালে এখানকার তাপমাত্রা ফুটন্ত জলের কাছাকাছি অর্থাৎ ৯৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। একইভাবে ইথিওপিয়ার ডানাকিল মরুভূমিকে বলা হয় ‘নরকের দ্বার’। এখানকার বিষাক্ত গ্যাস ও জীবন্ত আগ্নেয়গিরি পর্যটকদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক। আফ্রিকার লেক ন্যাট্রনও পিছিয়ে নেই; এই হ্রদের মাত্রাতিরিক্ত ক্ষারীয় জল যেকোনো প্রাণীকে পাথরের মমিতে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে।
হিংস্র বন্যপ্রাণী ও দুর্গম মানচিত্র
ব্রাজিলের ‘স্নেক আইল্যান্ড’ বা সাপের দ্বীপ এমনই এক জায়গা যেখানে প্রতি বর্গমিটারে অন্তত পাঁচটি বিষধর গোল্ডেন ল্যান্সহেড ভাইপার বাস করে। এই সাপের একটি কামড় মানুষের তাৎক্ষণিক মৃত্যু নিশ্চিত করে। একইভাবে বলিভিয়ার মাদিদি ন্যাশনাল পার্কের জীববৈচিত্র্য যতটাই সমৃদ্ধ, এখানকার হিংস্র পশুর আক্রমণ ঠিক ততটাই ভয়ংকর। অন্যদিকে, আধুনিক সভ্যতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ভারতের আন্দামানের নর্থ সেন্টিনেল দ্বীপটি তার শত্রুভাবাপন্ন উপজাতিদের কারণে নিষিদ্ধ ও বিপজ্জনক। এমনকি বিশ্বের উচ্চতম শিখর মাউন্ট এভারেস্টের ‘ডেড জোন’ আজও মানুষের জন্য এক মরণফাঁদ। অক্সিজেনের অভাব ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় সেখানে প্রতি বছর প্রাণ হারান অসংখ্য পর্বতারোহী, যাদের নিথর দেহগুলো প্রকৃতির চরম নিষ্ঠুরতার সাক্ষ্য হয়ে সেখানেই পড়ে থাকে।
মূলত ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তন, মানুষের সৃষ্ট বিপর্যয় এবং বন্যপ্রাণের আদিম উপস্থিতির কারণেই এই স্থানগুলো জনবসতির অযোগ্য হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও আগ্নেয়গিরির সক্রিয়তা মাউন্ট সিনাবুংয়ের মতো অঞ্চলগুলোকে ভবিষ্যতে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবুও বিভূতিভূষণের ‘চাঁদের পাহাড়’-এর মতো রোমাঞ্চের টানে আধুনিক পর্যটকরা বারবার এই মরণফাঁদগুলোকেই বেছে নিচ্ছেন অ্যাডভেঞ্চারের চূড়ান্ত গন্তব্য হিসেবে।