লালার আগাম জামিন বাতিলের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে ইডি, কয়লা পাচার মামলায় বাড়ছে আইনি চাপ

কয়লা পাচার মামলায় নাটকীয় মোড় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অনুপ মাজি ওরফে লালার আগাম জামিনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ ইডির আবেদনের ভিত্তিতে অনুপ মাজির কাছে জবাব তলব করে নোটিশ জারি করেছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াই নতুন করে গতি পেল।

তদন্তকারীদের দাবি ও জামিনের বিরোধিতা

সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় ইডির পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু যুক্তি দেন যে, অনুপ মাজি এই কয়লা পাচার চক্রের মূল হোতা। তদন্তকারী সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ইসিএল) খনি এলাকা থেকে বেআইনিভাবে প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার জাতীয় সম্পদ লুঠ করা হয়েছে। ইডির অভিযোগ, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অনুপ মাজি কোনো সহযোগিতা করেননি এবং দীর্ঘ সময় পলাতক ছিলেন। বিপুল অংকের এই আর্থিক দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছাতে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

পাল্টা যুক্তি ও আদালতের পর্যবেক্ষণ

অন্যদিকে, অনুপ মাজির আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতে দাবি করেন যে, তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছেন এবং ইতিমধ্যেই ২৩ বার ইডির দপ্তরে হাজিরা দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মূল সিবিআই মামলাতেও মাজি আইনি সুরক্ষা পেয়েছেন। তবে শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেও শেষ পর্যন্ত লালার কাছে জবাব তলব করেছে। ইডির অভিযোগ, এই পাচারের টাকা লেনদেনের জন্য একাধিক শেল কোম্পানি ও ভুয়ো ডিরেক্টর ব্যবহার করা হয়েছিল, যার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। লালার জবাবের ওপর ভিত্তি করেই এখন নির্ধারিত হবে তাঁর আগাম জামিন বহাল থাকবে নাকি তাঁকে কেন্দ্রীয় সংস্থার হেফাজতে যেতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *