তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে কারা দায়ী? রিপোর্ট জমার আগেই পুলিশের বড় পদক্ষেপ

তিলজলার জিজে খান রোডের একটি চামড়ার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা পড়ার আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে কারখানার মালিক জাফর নিশাদ এবং ম্যানেজারকে। মঙ্গলবার দুপুরের এই অগ্নিকাণ্ডে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং আরও তিনজনের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্বরিত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন, যাদের বুধবার বেলা ১১টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

বেআইনি পরিকাঠামো ও চরম গাফিলতির অভিযোগ

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনবসতিপূর্ণ এলাকার ওই চারতলা ভবনের দোতলায় কোনো অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে চলছিল চামড়ার কারখানাটি। ভবনের কাঠামো নির্মাণে একাধিক আইন অমান্য করার পাশাপাশি ছিল না অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ন্যূনতম বালাই। এমনকি আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও শ্রমিকদের বেরোনোর জন্য কোনো জরুরি নির্গমন পথ ছিল না। ফলে কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে বাথরুমে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই ঝলসে ও ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহতদের মধ্যে দুজন ভেন্টিলেশনে থাকায় মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সম্ভাব্য প্রভাব

মাত্র কয়েক মাস আগেই নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে ২৭ জনের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই তিলজলার এই ঘটনা রাজ্য সরকারকে কঠোর অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, রাজ্যে আর কোনো বেআইনি কারখানা চলতে দেওয়া হবে না এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনের শাসন কড়াভাবে প্রয়োগ করা হবে। পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই পরিস্থিতির জন্য পূর্বতন প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলেছেন। সরকারের এই কড়া মনোভাবের প্রভাবে আগামী দিনে শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অনিয়মিত ও ঘিঞ্জি কারখানাগুলোর বিরুদ্ধে বড় ধরনের উচ্ছেদ বা আইনি অভিযান শুরু হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ইতিমধ্যেই সারা রাজ্যে বেআইনি ভবন চিহ্নিত করে নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *