জাতীয় দলে ফেরার ইঁদুর দৌড় থেকে দূরে ভুবনেশ্বর, আসল সাফল্য কি তবে মানসিক শান্তিতেই
ভারতীয় ক্রিকেটে আইপিএলের পারফরম্যান্স মানেই জাতীয় দলে ফেরার জোরালো দাবি। চলতি ২০২৬ আইপিএলে ১১ ম্যাচে ২১ উইকেট নিয়ে সেই আলোচনার কেন্দ্রে এখন ভুবনেশ্বর কুমার। মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে চার উইকেট নেওয়ার পর রবিচন্দ্রন অশ্বিন বা ইয়ান বিশপদের মতো তারকারা তাঁকে নীল জার্সিতে ফেরানোর দাবি তুললেও, খোদ ভুবি যেন এই পুরো ডামাডোল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সে এসে কামব্যাকের নেশায় না ছুটে বরং নিজের খেলার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের বদলে বর্তমানই প্রধান
কেরিয়ারের এই পর্যায়ে এসে ভুবনেশ্বর কুমার খুব স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন যে, তিনি আর কামব্যাকের কথা ভাবছেন না। তাঁর মতে, অতীতে যখনই তিনি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করেছেন, সেটি খুব একটা কার্যকর হয়নি। এখনকার সময়ে যেখানে ক্রিকেটাররা পরের সিরিজ বা বিশ্বকাপ নিয়ে বুঁদ থাকেন, সেখানে ভুবনেশ্বরের এই নির্মোহ অবস্থান বেশ বিরল। গতি কিছুটা কমলেও নতুন বলে সুইং এবং ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রণের যে জাদু তিনি দেখাচ্ছেন, তা কেবল অভিজ্ঞতার কারণেই সম্ভব হচ্ছে। মূলত কোনো কিছু প্রমাণ করার তাগিদ নেই বলেই তিনি মাঠে অনেক বেশি সাবলীল।
নির্বাচকদের দোলাচল ও ভুবির নির্লিপ্তি
নির্বাচকদের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। ২০২৮ অলিম্পিক বা পরবর্তী টি-২০ বিশ্বকাপের সময় ভুবনেশ্বরের বয়স হবে ৩৮। দীর্ঘদিনের চোটের ইতিহাস এবং বয়স— এই দুই কারণে নির্বাচকরা নতুনদের সুযোগ দিতে আগ্রহী। যদিও বর্তমান পেস আক্রমণে জসপ্রীত বুমরাহ ছাড়া অভিজ্ঞতার অভাব স্পষ্ট। তাসত্ত্বেও ভুবনেশ্বর নিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ থেকে দূরে থাকাকেই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, জাতীয় দলের ব্যস্ততা না থাকায় এখন তিনি শরীরের যত্ন নেওয়া এবং ক্রিকেটের বাইরে সময় কাটানোর পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন, যা তাঁর পারফরম্যান্সে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। শেষ পর্যন্ত কামব্যাক হোক বা না হোক, মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়াই এখন এই অভিজ্ঞ পেসারের আসল প্রাপ্তি।