চতুর্থ মন্ত্রীর ইস্তফায় টালমাটাল ব্রিটেন, বিদ্রোহ সামলে গদি বাঁচাতে মরিয়া স্টারমার

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের মন্ত্রিসভায় বিদ্রোহের আগুন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রকের জুনিয়র মন্ত্রী জুবাইর আহমেদের ইস্তফার মধ্য দিয়ে গত কয়েক দিনে মোট চারজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য স্টারমার প্রশাসন থেকে সরে দাঁড়ালেন। সরকারের ব্যর্থতা এবং নেতৃত্বের অযোগ্যতার অভিযোগ তুলে মন্ত্রীদের এই গণ-পদত্যাগ ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এর আগে স্থানীয় সরকার ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী মাইতা ফাহনবুল্লেহ পদত্যাগ করে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বিদায় দাবি করেন। এই বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত মূলত গত সপ্তাহের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়কে কেন্দ্র করে।

দলের ভেতরে তীব্র বিভাজন ও নেতৃত্বের সংকট

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের বিরুদ্ধে লেবার পার্টির ভেতরেই এখন আড়াআড়ি বিভক্তি স্পষ্ট। পদত্যাগী মন্ত্রী ফাহনবুল্লেহ সামাজিক মাধ্যমে কড়া ভাষায় স্টারমারকে ব্যর্থ উল্লেখ করে পদত্যাগের সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে হাউস অফ কমন্সে লেবার পার্টির ৭০ জন সদস্য তাঁর পদত্যাগ চেয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন এবং অন্তত ৮৬ জন এমপি প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী, দলের ২০ শতাংশ এমপি অনাস্থা জানালে নেতৃত্ব পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়ে। যদিও বিদ্রোহী এমপিরা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন।

গদি রক্ষায় স্টারমারের যুক্তি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

চতুর্থ মন্ত্রীর ইস্তফার পর কিয়ের স্টারমার প্রধানমন্ত্রীর পদে টিকে থাকতে মরিয়া মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার রাতে দলীয় বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন দেশে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা আরও বাড়িয়ে দেবে। দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি মেরামতের জন্য তিনি আরও সময় এবং সুযোগের প্রার্থনা করেছেন। তবে দলের একাংশ ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এখনই নতুন নেতা নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করছেন। পরবর্তী নেতা হিসেবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নাম নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে রাজকীয় অনুমতি নিয়ে অন্তর্বর্তী নির্বাচন অথবা দলীয় অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নেতৃত্ব বদল—উভয় সম্ভাবনাই এখন ব্রিটেনের রাজনৈতিক আকাশে প্রবল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *