বিধানসভায় এবার উলটপুরাণ, বিরোধী শিবিরের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখলেন শোভনদেব ও ফিরহাদ
পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতিতে এক বড়সড় পটপরিবর্তনের সাক্ষী থাকল বিধানসভা। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকাল শেষে এবার বিরোধী আসনে বসতে হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। বুধবার বিধানসভার নতুন বিন্যাস এবং দলের বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখতে উপস্থিত হয়েছিলেন নবনিযুক্ত বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং মুখ্য সচেতক ফিরহাদ হাকিম। এদিন বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ পর্ব শুরু হলেও, তৃণমূলের এই দুই শীর্ষ নেতার মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলীয় সহকর্মীদের সংসদীয় স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করা।
নতুন ভূমিকা ও পরিকাঠামো পরিদর্শন
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পালাবদলের পর রাজ্যের প্রশাসনিক রাশ এখন বিজেপির হাতে। স্বাভাবিকভাবেই বিধানসভার অলিন্দে শাসক ও বিরোধী পক্ষের বসার জায়গা অদলবদল হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কদের জন্য এখন নির্ধারিত হয়েছে আলাদা কক্ষ এবং বিরোধী বেঞ্চ। বুধবার বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজে গিয়ে বিরোধীদের জন্য বরাদ্দ সেই ঘরগুলি পরিদর্শন করেন। পাশাপাশি নতুন বিধায়কদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয় এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার খোঁজখবর নেন তিনি। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র এবং বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো অভিজ্ঞ নেতারাও। ফিরহাদ হাকিম জানান, দলের বিধায়কদের কোনো রকম অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা সরেজমিনে দেখতেই তাঁদের এই সফর।
সংসদীয় লড়াইয়ের প্রস্তুতি
শাসক থেকে বিরোধী দলে উত্তরণ কেবল আসনের পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক কৌশলেরও আমূল পরিবর্তন। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের নতুন বিধায়কদের সংসদীয় রীতিনীতি শেখাতে বিশেষ ক্লাসের আয়োজন করবেন তিনি। রাজ্যের বর্তমান সরকার বিরোধীদের অধিকার রক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করে তিনি মন্তব্য করেন, সরকারি স্তরে বলা কথা এবং বাস্তবের প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান থাকে। ফলে আগামী দিনে বিধানসভার ভেতরে সরকার পক্ষকে চাপে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের দাবি দাওয়া তুলে ধরতে তৃণমূল যে সুসংগঠিতভাবে এগোতে চায়, শীর্ষ নেতাদের এই সক্রিয়তা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।