মদন কি এবার পদ্ম শিবিরে, অর্জুনের বিস্ফোরক দাবিতে তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা
বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের খেলা নতুন নয়, তবে এবার কামারহাটির দাপুটে বিধায়ক মদন মিত্রকে নিয়ে অর্জুন সিংয়ের একটি মন্তব্য রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিধানসভায় বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন বিজেপির এই হেভিওয়েট নেতার দাবি, মদন মিত্র যেকোনো মুহূর্তে ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিতে পারেন। একসময়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের এমন রসায়ন ঘিরে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।
বিধানসভার অলিন্দে নয়া সমীকরণ
বুধবার বিধানসভায় নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের মদন মিত্র এবং নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অর্জুন সিং হাসিমুখে দাবি করেন, “একসঙ্গেই আছি। যেকোনো মুহূর্তে মদনদা আমাদের সঙ্গে চলে আসবেন।” অর্জুনের এই আকস্মিক মন্তব্যে উপস্থিত অনেকেই চমকে উঠলেও মদন মিত্র নিজে কোনো প্রতিবাদ করেননি। উল্টো সহাস্য মুখে অর্জুনের চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। বর্ষীয়ান এই নেতার রহস্যময় নীরবতা জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে।
মানসিক বিচ্ছেদ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা মদন মিত্রের বর্তমান মানসিক অবস্থান নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে খোদ দলের ভেতরেই। সাংবাদিকদের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়হীন এই বিধানসভায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তৃণমূলের সাম্প্রতিক বিপর্যয় এবং দলীয় নেতৃত্বের একাংশের সঙ্গে দূরত্বের কারণে কি এই মোহভঙ্গ? সেই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী নেতা যদি শিবির বদল করেন, তবে তা উত্তর চব্বিশ পরগনার রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপি এই জল্পনাকে কাজে লাগিয়ে শাসক শিবিরে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।