অধিকমাসের শুরুতে সাবধানবাণী, ১৬ জুন পর্যন্ত বিপদ এড়াতে যা করবেন না
সনাতন ধর্মে আধ্যাত্মিক সাধনার অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় হিসেবে বিবেচিত হয় অধিকমাস বা পুরুষোত্তম মাস। জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনায় সূর্য ও চন্দ্রের গতির সামঞ্জস্য রক্ষায় প্রতি তিন বছর অন্তর ক্যালেন্ডারে এই অতিরিক্ত মাসটির আগমন ঘটে। ২০২৬ সালে আগামী ১৭ মে থেকে এই বিশেষ মাসের সূচনা হচ্ছে, যা চলবে ১৫ জুন পর্যন্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, স্বয়ং শ্রীবিষ্ণুর আশীর্বাদধন্য এই মাসটি যেমন পুণ্য অর্জনের জন্য সেরা, তেমনই এই সময়ে বেশ কিছু কাজ করার ক্ষেত্রে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
শুভ কাজে বিরতি ও শাস্ত্রীয় বিধি
মলমাস বা অধিকমাসের সময়টিকে সাধারণ জাগতিক শুভ কাজের জন্য অশুভ বলে গণ্য করা হয়। শাস্ত্রমতে, এই এক মাস বিবাহ, অন্নপ্রাশন, উপনয়ন বা বাগদানের মতো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান এড়িয়ে চলাই বিধেয়। বিশ্বাস করা হয় যে, এই সময়ে সম্পাদিত শুভ কাজ থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায় না। এছাড়া গৃহপ্রবেশ বা নতুন বাড়ির ভিত পুজোর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও ১৫ জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় পরিবারে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকে যায়।
আর্থিক লেনদেন ও জীবনযাত্রায় সংযম
নতুন ব্যবসা শুরু বা বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য এই সময়টি অনুকূল নয়। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে লোকসান এড়াতে এই সময়ে নতুন চুক্তি বা সম্পদ ক্রয় থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়। বিশেষ করে সোনা, হিরে বা বিলাসবহুল গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে শাস্ত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। জীবনযাত্রার ক্ষেত্রেও সাত্ত্বিকতা বজায় রাখা জরুরি। অধিকমাসে আমিষ আহার, মদ্যপান এবং তামসিক খাদ্য বর্জন করে সংযম পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আধ্যাত্মিক প্রভাব ও করনীয়
অধিকমাসে সাধারণ শুভ কাজ নিষিদ্ধ থাকলেও জপ, তপ ও দান-ধ্যানের গুরুত্ব অপরিসীম। শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ এবং বিষ্ণু সহস্রনাম জপের মাধ্যমে এই সময়ে মানসিক প্রশান্তি ও আধ্যাত্মিক উন্নতি সম্ভব। অভাবী মানুষকে অন্ন ও বস্ত্র দান করলে জীবনের বড় বাধা কেটে যায় বলে মনে করা হয়। মূলত ১৬ জুন থেকে পুনরায় স্বাভাবিক শুভ সময় শুরু হবে, তাই অন্তর্বর্তী এই সময়টুকু ভক্তি ও নিয়মনিষ্ঠার সঙ্গে অতিবাহিত করাই মঙ্গলের।