যেখানে-সেখানে পশুহত্যায় নিষেধাজ্ঞা, অমান্য করলে কড়া শাস্তির বার্তা রাজ্য সরকারের

আদালতের রায়কে সম্মান জানিয়ে রাজ্যে পশুহত্যার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কঠোর বিধিনিষেধ জারি করল সরকার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পরই এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। নতুন এই নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এখন থেকে যেখানে-সেখানে বা প্রকাশ্য রাস্তায় পশুহত্যা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। মূলত জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বাধ্যতামূলক শংসাপত্র ও নির্দিষ্ট স্থান

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুর বলির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শংসাপত্র থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পশুহত্যার আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র গ্রহণ করতে হবে। যদি কোনো কর্তৃপক্ষ এই শংসাপত্র দিতে অস্বীকার করেন, তবে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। এছাড়া, যত্রতত্র পশুহত্যা বন্ধ করে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত কসাইখানায় এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শাস্তির বিধান ও আইনি প্রভাব

হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে প্রকাশ্যে পশুহত্যা করেন, তবে আইন অনুযায়ী তাকে ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা ১০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত করা হতে পারে। আদালতের এই রায়ের বিস্তারিত তথ্য এখন থেকে রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেই সাধারণ মানুষ দেখতে পাবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে যত্রতত্র রক্তপাত ও বর্জ্য ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে এবং রাজ্যে পশুপালন ও জবাই সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *