বড় সিদ্ধান্ত, অনলাইন মোয়াজ্জেম ভাতার পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশ
রাজ্যের মসনদে বসার পর থেকেই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিভিন্ন দপ্তরের সচিবদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। এই বৈঠকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে জনপরিষেবাকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুতগতি সম্পন্ন করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা জারি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ টাস্কফোর্স
রাজ্যের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই দুই দপ্তরে অভিজ্ঞ জনপ্রতিনিধিদের তদারকির দায়িত্ব দিয়েছেন। শিক্ষা দপ্তরের সচিবদের সঙ্গে সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য দপ্তরের কাজ তদারকি করবেন চিকিৎসক-বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও ইন্দ্রনীল খাঁ। তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে আগামী ১ জুন পর্যন্ত স্কুলের ছুটি বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী সোমবার থেকে স্নাতক স্তরের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে শুরু করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সাংস্কৃতিক জগতের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ, রূপা গঙ্গোপাধ্যায়দের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের কাজের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও বকেয়া কাজের নিষ্পত্তি
সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব বাড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন থেকে মোয়াজ্জেম ভাতা সম্পূর্ণ অনলাইনে প্রদান করা হবে, যা বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হচ্ছে। ক্ষুদ্র শিল্প দপ্তরের অধীনে পড়ে থাকা প্রায় ২৫ লক্ষ আবেদনের দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জল জীবন মিশনের কাজে গাফিলতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাইপ লাইন থাকলেও জল মিলছে না— এমন পরিস্থিতি আর সহ্য করা হবে না।
আর্থিক সংস্কার ও পরিকাঠামো উন্নয়ন
রাজ্যের নিজস্ব আয় বৃদ্ধির ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি টেন্ডার বা দরপত্র প্রক্রিয়ায় সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনিক কাজে গতি আনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই মুখ্যমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য। আগামী দিনে তিনি নিজেই স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দপ্তরে গিয়ে সচিবদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে।