বাংলায় পালাবদল, মমতার গড়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিজয় মিছিল ও একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী ঘোষণা

রাজ্যে দেড় দশকের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি সরকার গঠনের পর প্রথমবার ভবানীপুরে পা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক হিসেবে পরিচিত ভবানীপুরে এক বিশাল বিজয় মিছিল করেন তিনি। চেতলা হাট থেকে ক্যামাক স্ট্রিট পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলে জনজোয়ার আছড়ে পড়ে। মূলত ভবানীপুরের ভোটারদের ধন্যবাদ জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই কর্মসূচি ছিল বলে বিজেপি সূত্রে খবর। বিধানসভায় শপথ গ্রহণের দিনেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে এই শক্তি প্রদর্শন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

ভাতা বৃদ্ধি ও জনহিতকর পদক্ষেপ

ক্ষমতায় আসার পরপরই একাধিক সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে চালু থাকা বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা এবং প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে। আগে এই প্রকল্পগুলোতে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও জুন মাস থেকে উপভোক্তারা দুই হাজার টাকা করে পাবেন। এর পাশাপাশি রাজ্যে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মতো নতুন উদ্যোগ কার্যকর করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে তিলজলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ও কারখানার বিরুদ্ধে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বুলডোজার নামিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

প্রশাসনিক সংস্কার ও নতুন নির্দেশিকা

প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও একগুচ্ছ বদল এনেছে নতুন সরকার। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পথ অনুসরণ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজের কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছেন। এমনকি শপথ নিতে অনেক বিজেপি বিধায়ক এদিন বাসে করে বিধানসভায় পৌঁছান। অন্যদিকে, শিক্ষা দফতর থেকে নির্দেশ জারি করা হয়েছে যে, এখন থেকে স্কুলগুলোতে প্রার্থনার সময় জাতীয় সংগীতের পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রাজ্যজুড়ে সমস্ত অবৈধ টোল গেট ও ড্রপ গেট অবিলম্বে বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন।

উন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষা

দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ শুক্রবার থেকে শুরু হতে চলেছে, যা পুজোর আগেই শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। কলকাতা পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ধর্মীয় ক্ষেত্রে লাউডস্পিকার ব্যবহার এবং ভোট পরবর্তী হিংসা দমনে শূন্য সহনশীলতা বা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এই বহুমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার রাজ্যের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *