অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে মাসে ৩ হাজার টাকা, আবেদনের পদ্ধতি নিয়ে বড় ঘোষণা সরকারের

রাজ্যে নতুন প্রকল্প অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তৃণমূল সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে এবার থেকে মহিলারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্প কার্যকর হতে চলেছে।

আবেদন প্রক্রিয়া ও অনলাইন পোর্টাল

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল জানিয়েছেন, মহিলারা যাতে ঘরে বসেই আবেদন করতে পারেন, তার জন্য দ্রুত একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। তবে যাঁরা ইতিমধ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। তাঁদের বিদ্যমান ডেটাবেসের মাধ্যমেই সরাসরি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা দেওয়া হবে। অশিক্ষিত মহিলাদের কথা মাথায় রেখে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও সরল করা হচ্ছে যাতে কোনও জটিলতা ছাড়াই তাঁরা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

সুবিধাভোগীদের তালিকা ও যাচাইকরণ

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আপাতত প্রায় ৯১ লক্ষ উপভোক্তার নাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের অধিকাংশেরই নাম এই তালিকায় থাকছে। তবে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বিশেষ যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালানো হবে। এক্ষেত্রে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তি বা অনাগরিক কেউ এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। মূলত ডিবিটি বা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রকল্পের প্রভাব ও লক্ষ্য

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপভোক্তাদের মাসিক আর্থিক অনুদান এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাচ্ছে। সরকারের দাবি, এই অতিরিক্ত আর্থিক সাহায্য গ্রামীণ ও শহরতলি এলাকার মহিলাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে সাহায্য করবে। সরাসরি সরকারি কোষাগার থেকে সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়ার এই পরিকল্পনা রাজ্যের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় ফর্ম বিলি ও নিয়মাবলি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে থাকলেও, সরকারের লক্ষ্য ১ জুন থেকেই মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *