বেসুরো গলায় গান গাওয়াই কি আসল আত্মবিশ্বাস, যা বলছেন মনোবিজ্ঞানীরা
আড্ডা কিংবা পারিবারিক অনুষ্ঠানে সুর ছাড়াই যারা গলা ছেড়ে গান গাইতে পারেন, তাদের অনেক সময় উপহাসের পাত্র হতে হয়। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতা কোনো লজ্জার বিষয় নয়, বরং এটি একজন মানুষের উচ্চমাত্রার আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক সুস্থতার পরিচয় বহন করে। যারা অন্যের বিচার বা হাসাহাসিকে গুরুত্ব না দিয়ে নিজের আনন্দে গান গাইতে পারেন, তারা সাধারণ মানুষের চেয়ে মানসিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকেন।
সামাজিক ভয় জয় ও আত্মপ্রকাশের স্বাধীনতা
অধিকাংশ মানুষই ‘লোকে কী বলবে’ এই ভয়ে নিজের সুপ্ত ইচ্ছাগুলো চেপে রাখেন। সুর কেটে যাওয়া বা ভুল করার ভয় তাদের আড়ষ্ট করে তোলে। কিন্তু যারা বেসুরো জেনেও নির্ভীকভাবে গান গেয়ে যান, তারা সামাজিক চাপ কাটিয়ে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে দক্ষ। এই ধরনের মানুষের মধ্যে আত্মপ্রকাশের প্রবল আকাঙ্ক্ষা থাকে এবং তারা অন্যের মতামতের চেয়ে নিজের মানসিক প্রশান্তিকে বেশি প্রাধান্য দেন। এটি তাদের ব্যক্তিত্বের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
অসম্পূর্ণতা মেনে নেওয়া এবং মানসিক সুস্বাস্থ্য
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, নিজের খামতি বা অসম্পূর্ণতাকে স্বীকার করে সবার সামনে স্বাভাবিক থাকাটাই হলো প্রকৃত আত্মবিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ। নিখুঁত হওয়ার ইঁদুর দৌড়ে না শামিল হয়ে যারা নিজের সীমাবদ্ধতা নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তারা যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেন। এছাড়া গান গাওয়ার সময় মস্তিষ্কে ‘ডোপামিন’ হরমোন নিঃসরণ হয়, যা মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে। ফলে এই ‘বেসুরো’ গায়করা প্রকৃতপক্ষে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি ফুরফুরে মেজাজে ও সুখী জীবনযাপন করেন।