স্টেশন পরিষ্কারে এবার ৩০ মিনিটের চ্যালেঞ্জ, অবিশ্বাস্য উদ্যোগ নিল রেল

স্টেশন চত্বরকে আবর্জনামুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর রাখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। গত কয়েকদিন ধরে সমাজমাধ্যমে ‘৩০ মিনিট’ সময়সীমা নিয়ে যে রহস্য তৈরি হয়েছিল, তার অবসান ঘটিয়ে ‘#ERChallenge’ নামক একটি বিশেষ দ্রুত পরিচ্ছন্নতা অভিযান বা ‘র‍্যাপিড রেসপন্স’ ক্লিনলিনেস ইনিশিয়েটিভ শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রত্যক্ষ ক্ষমতা এখন সাধারণ যাত্রীদের হাতেই তুলে দেওয়া হলো।

অভিযোগ জানালেই ঝটপট সমাধান

নতুন এই ব্যবস্থায় স্টেশনের কোথাও নোংরা বা আবর্জনা স্তূপীকৃত অবস্থায় দেখলে যাত্রীরা সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন। রেলের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, অভিযোগ প্রাপ্তির মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে সাফাই কর্মীরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে এলাকাটি পরিষ্কার করে দেবেন। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। যাত্রীদের প্রথমে আবর্জনার একটি জিওট্যাগযুক্ত ছবি তুলতে হবে এবং সেটি কিউআর কোড, রেল-মদদ প্ল্যাটফর্ম অথবা পূর্ব রেলের অফিশিয়াল ফেসবুক ও টুইটার হ্যান্ডেলে সংশ্লিষ্ট ডিভিশনকে ট্যাগ করে পাঠাতে হবে।

জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও প্রভাব

পূর্ব রেলের এই অভিযানের মূল দর্শন হলো ‘Spot It. Report It. We’re On It.’। রেল কর্মকর্তাদের মতে, শুধুমাত্র সরকারি প্রচেষ্টায় বিশাল স্টেশন চত্বর পরিষ্কার রাখা সম্ভব নয়; এর জন্য সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন। এই পদক্ষেপের ফলে রেল পরিষেবা ও যাত্রীদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে এবং যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার প্রবণতা হ্রাস পাবে। পার্ক সার্কাস থেকে শিয়ালদার মতো ব্যস্ত স্টেশনগুলোতে এই পরিষেবা কার্যকর হলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই আধুনিক ও গতিশীল উদ্যোগের ফলে রেলের পরিষেবা প্রদান এবং নাগরিক দায়বদ্ধতার এক নতুন সমীকরণ তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *