উচ্চমাধ্যমিকে অভাবনীয় সাফল্য, মেধাতালিকায় ৬৪ জনের দাপট ও পাসের হারে এগিয়ে ছাত্রীরা
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মাত্র ৭৬ দিনের মাথায় ফলাফল ঘোষণা করল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। সাংবাদিক বৈঠকে সংসদ সভাপতি পার্থ কর্মকার জানান, এ বছর পাসের হার ৯১.২৩ শতাংশ। জেলাভিত্তিক ফলাফলে সাফল্যের নিরিখে শীর্ষে রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর। মেধাতালিকায় এ বছর সারা রাজ্যের ৬৪ জন শিক্ষার্থী জায়গা করে নিয়েছেন, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নরেন্দ্রপুর ও পুরুলিয়ার জয়জয়কার
মেধাতালিকায় প্রথম দশে থাকা ৬৪ জনের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৫৬ এবং ছাত্রী ৮ জন। এর মধ্যে একক জেলা হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে ১৯ জন এবং পুরুলিয়া থেকে ১৭ জন শীর্ষ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। ৪৯৬ নম্বর পেয়ে এ বছর উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের আদৃত পাল। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন ৩ জন এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ৬ জন পরীক্ষার্থী। ফলাফলের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রামকৃষ্ণ মিশনের শাখাগুলো বরাবরের মতো এবারও তাদের সাফল্যের ধারা বজায় রেখেছে।
সাফল্যের নেপথ্যে ও আগামীর বার্তা
ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি হওয়া সামাজিক অগ্রগতির এক ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংসদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুত ফল প্রকাশের ফলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতির বাড়তি সময় পাবেন। তবে মেধাতালিকায় ছাত্রীদের সংখ্যার তুলনায় ছাত্রদের আধিপত্য থাকলেও সামগ্রিক পাসের হারে মেয়েদের এগিয়ে থাকা নারীশিক্ষার প্রসারে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রভাব বলেই মনে করছেন শিক্ষাবিদদের একাংশ। এই ফলাফল আগামী দিনে কারিগরি ও সাধারণ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এক নতুন প্রতিযোগিতার আবহ তৈরি করবে।