আশঙ্কা সত্যি করে কি এবার আকাশছোঁয়া হবে তেলের দাম, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে পড়ার আশঙ্কা এখন প্রবল। এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার বা কোনো সংস্থা সরাসরি জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কথা স্বীকার না করলেও, এবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই সিলমোহর পেল। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জ্বালানি ও সারের মতো পণ্যের ক্ষেত্রে ভারত আমদানির ওপর নির্ভরশীল এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে এই আমদানির খরচ বাড়ার বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর চাপা এখন সময়ের অপেক্ষা।

জ্বালানি সংকটের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হলেও এতদিন দেশের অভ্যন্তরে পেট্রল ও ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল সরকার। তবে পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট মিটতেই সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে জ্বালানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বাণিজ্যিক গ্যাস ও অটো এলপিজির দাম বাড়িয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে। একধাক্কায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম সিলিন্ডার প্রতি ৯৯৩ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্তের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ও সরকারি সতর্কতা

জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে তার চেইন রিঅ্যাকশন হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও হু হু করে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইতিমধ্যেই দেশবাসীকে সতর্ক করেছেন। বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয় করতে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণ বাতিল, সোনা কেনা কমানো এবং ভোজ্য তেলের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। যদিও সরকারের দাবি দেশে এখনও জ্বালানির কোনো প্রত্যক্ষ সংকট নেই, তবুও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে চলেছে, তা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই স্বীকারোক্তিতে পরিষ্কার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *