অভিজ্ঞতায় নয় আরএসএস ঘনিষ্ঠতায় গুরুত্ব, বাংলার বিধানসভায় নতুন স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু

রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজির গড়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ১৮তম অধ্যক্ষ হতে চলেছেন উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্র রথীন্দ্রনাথ বসু। অভিজ্ঞ তাপস রায় কিংবা পরিচিত মুখ স্বপন দাশগুপ্তদের নাম নিয়ে জল্পনা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত কোচবিহার দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিধায়কের উপরেই ভরসা রাখল বিজেপি নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করেন, যা পরিষদীয় রাজনীতিতে এক বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাফল্যের নেপথ্যে সঙ্ঘ ও সংগঠন

প্রথমবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও রথীন্দ্রনাথ বসুর এই উত্থানের নেপথ্যে তাঁর দীর্ঘদিনের আরএসএস যোগ ও সাংগঠনিক দক্ষতাকে বড় কারণ হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল। তিনি দীর্ঘদিন বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বর্তমানে উত্তরবঙ্গ বিভাগের আহ্বায়কের কাজ সামলাচ্ছেন। শিলিগুড়ি ও কোচবিহারের সাংগঠনিক কাজে তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। পরিষদীয় অভিজ্ঞতা না থাকলেও তাঁর বাগ্মিতা এবং আদর্শের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা দলীয় হাইকমান্ডের সুনজরে আসার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরের জয়জয়কার ও নতুন সমীকরণ

এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে শাসক দল। এই প্রথম উত্তরবঙ্গের কোনো নেতা বিধানসভার স্পিকারের আসনে বসতে চলেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রথীন্দ্রনাথ বসুর মনোনয়ন শুধুমাত্র একটি সাংবিধানিক নিয়োগ নয়, বরং উত্তরবঙ্গে বিজেপির জনভিত্তিকে আরও সুসংহত করার কৌশল। স্পিকার পদের প্রার্থী মনোনীত হওয়ার পর তিনি জানিয়েছেন যে, পূর্বতন সরকারের আমলের সংসদীয় অচলাবস্থা কাটিয়ে গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষাই হবে তাঁর প্রধান লক্ষ্য। বিরোধীরা যদি পাল্টা প্রার্থী না দেয়, তবে সর্বসম্মতিক্রমেই তিনি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *