উচ্চ মাধ্যমিকে পাশের হার ৯১.২৩ শতাংশ, সাফল্যের শিখরে পূর্ব মেদিনীপুর
২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতেই রাজ্যের শিক্ষা মহলে খুশির হাওয়া বয়ে গিয়েছে। এ বছর সামগ্রিকভাবে পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৯১.২৩ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় অত্যন্ত ইতিবাচক। সংসদ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট ৫,৭১,৩৫৫ জন পরীক্ষার্থী সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। বিশেষত নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে অভাবনীয় অগ্রগতি লক্ষ্য করা গিয়েছে, কারণ মোট উত্তীর্ণদের মধ্যে ৩,২০,২৩০ জনই ছাত্রী। মেধা তালিকায় এবার জায়গা করে নিয়েছে ৬৪ জন পড়ুয়া, যার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের আদৃত পাল (৪৯৬)। দ্বিতীয় স্থানে যৌথভাবে রয়েছেন পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনের জিষ্ণু কুন্ডুসহ আরও তিনজন।
সাফল্যের নিরিখে জেলা ও মেধা তালিকা
জেলাভিত্তিক ফলাফলের বিচারে আবারও শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে পূর্ব মেদিনীপুর, যেখানে পাশের হার সর্বোচ্চ ৯৪.১৯ শতাংশ। মেধার ক্রমানুসারে এরপর রয়েছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, পুরুলিয়া এবং দার্জিলিং। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ এবার মাত্র ৭৬ দিনের মাথায় দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। মার্কশিট প্রদানের ক্ষেত্রেও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে; এবার প্রতিটি মার্কশিটে বিষয়ভিত্তিক নম্বরের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীর ছবি এবং পার্সেন্টাইল যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া স্কুলগুলোর জন্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট প্রস্তুত করা হয়েছে যাতে তারা নিজস্ব শিক্ষাগত মান পর্যালোচনা করতে পারে।
ভবিষ্যৎ শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় সংস্কারের ইঙ্গিত
আগামী দিনের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড়সড় পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে সংসদ। নতুন সেমেস্টার ব্যবস্থার আওতায় চতুর্থ সেমেস্টারে কোনো পরীক্ষার্থী আশানুরূপ ফল করতে না পারলে, তাদের জন্য পুনরায় পরীক্ষায় বসার সুযোগ রাখা হচ্ছে। এই সংস্কারের ফলে পড়ুয়ারা তাদের মানোন্নয়নের একটি অতিরিক্ত সুযোগ পাবে। মূলত পঠনপাঠনের মানোন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় পাশের হারে এই জোয়ার এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দ্রুত ফল প্রকাশ এবং সেমেস্টার পদ্ধতির সংস্কার আগামী দিনে উচ্চশিক্ষার পথকে আরও মসৃণ ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।