নাগালে গোটা বিশ্ব, সর্বশক্তিমান পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র সরমতের সফল পরীক্ষা চালাল রাশিয়া
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে আরও একধাপ এগিয়ে গেল রাশিয়া। মঙ্গলবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল (ICBM) ‘সরমত’-এর সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে পুতিন প্রশাসন। পশ্চিমা দেশগুলোর কাছে ‘সাতান-২’ নামে পরিচিত এই মারণাস্ত্রটিকে বর্তমানে পৃথিবীর সামরিক ভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সেনার অস্ত্রভাণ্ডারে যুক্ত হবে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন আতঙ্ক
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, সরমত ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির যে কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অনায়াসে ভেদ করতে পারে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেডের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা যে কোনো পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। ২০১১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে মূলত সোভিয়েত আমলের পুরনো আর-৩৬এম ভয়েভোদা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে প্রতিস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়েছে ক্রেমলিন। এর আগে একবার পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে সাফল্য এলেও ২০২৪ সালে একটি বড় দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল এই প্রকল্প। তবে মঙ্গলবারের সফল পরীক্ষা সেই সমস্ত বাধা কাটিয়ে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল।
বিশ্বজুড়ে পরমাণু যুদ্ধের ঝুঁকি
বিশ্লেষকদের মতে, ৩৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে গোটা বিশ্বের যে কোনো প্রান্ত। আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সর্বশেষ চুক্তিটির মেয়াদ গত ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে মারণাস্ত্র তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সফল পরীক্ষাটি কেবল রাশিয়ার সামরিক শক্তি প্রদর্শনই নয়, বরং পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য একটি বড় ধরনের কৌশলগত বার্তাও বটে।