উচ্চ মাধ্যমিকে মেধা তালিকার শীর্ষে আদৃত, কৃতী ছাত্রকে ফোন করে শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ফল প্রকাশ হতেই সাফল্যের শিখরে বরাহনগরের আদৃত পাল। ৪৯৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছেন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন আবাসিক বিদ্যালয়ের এই ছাত্র। আদৃতের এই অভাবনীয় সাফল্যে খুশির হাওয়া তাঁর পরিবার ও স্কুল প্রাঙ্গণে। বৃহস্পতিবার সকালেই এই কৃতি ছাত্রকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রীর ফোনে উৎসাহ ও আগামীর বার্তা

আদৃতের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে ‘গো অ্যাহেড’ বা এগিয়ে যাওয়ার মন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। কৃতী ছাত্রের পাশাপাশি তাঁর বাবার সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। কথোপকথন চলাকালীন আদৃতের বাবা রাজ্যের সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নের অনুরোধ জানালে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সব কিছুই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।” মেধা তালিকায় প্রথম হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বরাহনগরের বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন প্রতিবেশী ও শুভানুধ্যায়ীরা।

লক্ষ্য যখন মহাকাশ ও জ্যোতির্বিদ্যা

মাধ্যমিকে একাদশ স্থান অর্জন করা আদৃত নিজের ভুলভ্রান্তি শুধরে উচ্চ মাধ্যমিকে শীর্ষস্থান দখল করেছেন। তবে এই সাফল্যের মাঝেও তাঁর দু’চোখে এখন মহাকাশ জয়ের স্বপ্ন। ভবিষ্যতে মহাকাশ বিজ্ঞান এবং নক্ষত্রদের নিয়ে গবেষণায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চান তিনি। ঘড়ি ধরে পড়ার চেয়ে নিয়ম মেনে চলাতেই বিশ্বাসী এই ছাত্রের নেশা জ্যোতির্বিদ্যা বা অ্যাস্ট্রোনমি। স্কুলের কড়া অনুশাসন আর পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থনকেই এই অভাবনীয় ফলাফলের মূল কারিগর বলে মনে করছেন আদৃত।

প্রথাগত শিক্ষার বাইরেও বর্ণিল জীবন

পড়াশোনার বাইরে আদৃতের অন্য এক পরিচয় রয়েছে। নিজেকে পুরোদস্তুর ‘খাদ্যরসিক’ হিসেবে দাবি করা এই ছাত্র মায়ের হাতের রান্নার ভীষণ ভক্ত। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে হেঁশেলের খবর রাখা তাঁর অন্যতম শখ। মেধা তালিকার এই সাফল্য বাংলার শিক্ষা মানচিত্রে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ও বরাহনগরকে নতুন করে উজ্জ্বল করে তুলল। উচ্চ শিক্ষার আঙিনায় পা রাখার আগে আদৃতের এই আত্মবিশ্বাস আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য পড়ুয়াদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *