ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার আজও অক্ষত বলছে মার্কিন রিপোর্ট
আমেরিকা ও ইরান সংঘাত ৭৫তম দিনে পদার্পণ করার মাহেন্দ্রক্ষণে বিস্ফোরক এক তথ্য সামনে এল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন লাগাতার দাবি করছেন যে ইরানের সামরিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে, ঠিক তখনই একটি গোপন মার্কিন রিপোর্ট তাঁর সেই দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিল। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এখনও বড়সড় ক্ষতির মুখ দেখেনি এবং দেশটির সমরশক্তি অনেকাংশেই আগের মতো অটুট রয়েছে।
অক্ষত সমরশক্তি ও কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ
প্রকাশিত ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান তার সিংহভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। এমনকি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি বর্তমানে ইরানের সামরিক বাহিনীর অধীনে রয়েছে। যদিও হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন কিছু সুনির্দিষ্ট অস্ত্রভাণ্ডার মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের কাছে এখনও ইরানের অন্তত ৩০টি সক্রিয় অস্ত্রাগার রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চলের অস্থায়ী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ৭০ শতাংশই বর্তমানে সচল, যা যে কোনো সময় সক্রিয় হওয়ার সক্ষমতা রাখে।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আলোচনা ও প্রভাব
যুদ্ধের এই আবহে যখন নতুন করে সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা চলছে, তখন স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে বলেও ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে ইরানের হাতে থাকা দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ও স্বল্পপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অপরিবর্তিত থাকায় গভীর উদ্বেগে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুটে ইরানের এই সামরিক উপস্থিতি পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড়সড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। এই রিপোর্টটি প্রকাশ্যে আসার পর ওয়াশিংটনের সমর কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টিও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।