হাত জোড় করে কেঁদে ফেললেন মমতা, হাইকোর্টে বুলডোজার মামলার শুনানিতে তীব্র উত্তেজনা
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে বুলডোজার সংস্কৃতি ও ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মুহূর্ত তৈরি হলো। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর একের পর এক বেআইনি নির্মাণ ও দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলায় সওয়াল করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতির কাছে হাত জোড় করে মানুষের নিরাপত্তার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “প্লিজ স্যার, এটাই আমার শেষ বক্তব্য, রাজ্যের মানুষকে বাঁচান।”
আদালতে বুলডোজার ও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ
শুনানির শুরুতে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে ‘বুলডোজার কালচার’ নিয়ে আসার তীব্র বিরোধিতা করেন। বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের দাবি, হকার জোন এবং বহু স্থায়ী নির্মাণ কোনো আইনি নোটিশ ছাড়াই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে, যা মানুষের জীবন ও জীবিকার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তথ্য দিয়ে দাবি করেন যে, ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও পর্যন্ত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৫০টিরও বেশি দলীয় কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এমনকি মহিলারাও রেহাই পাচ্ছেন না বলে তিনি অভিযোগ করেন। আইনজীবীদ্বয় সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করেন যে, আদালতের নির্দেশ ছাড়া এভাবে বুলডোজার চালানো যায় না।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে জখম হওয়া মানুষদের ছবি এবং ঘটনার নথিপত্র বিচারপতির সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এটা পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হচ্ছে না।” তাঁর অভিযোগ, পুলিশ আক্রান্তদের এফআইআর গ্রহণ করছে না এবং সংখ্যালঘুরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সাধারণ মানুষ আতঙ্কে বাজারে যেতে পারছেন না। অন্যদিকে, পুলিশের আইনজীবী ও কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং মামলার এক্তিয়ার খতিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন।
আইনি জটিলতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই আইনি লড়াইয়ের মূল কারণ হলো প্রশাসনিক পদক্ষেপ বনাম ব্যক্তিগত অধিকারের সংঘাত। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি প্রমাণ হয় যে যথাযথ পদ্ধতি ছাড়াই বুলডোজার চালানো হয়েছে, তবে রাজ্য সরকারকে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেতে হতে পারে। আবার ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তদন্তের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নজরদারিতে বিশেষ কমিটি গঠনের দাবিও তোলা হয়েছে। এই মামলার রায়ের ওপর নির্ভর করবে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের ভবিষ্যৎ রূপরেখা। বর্তমানে আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে সব পক্ষ।