‘১১ মাস বাইরে থাকতে হবে না’, এই মন্তব্যের আড়ালে কোন রাজনৈতিক ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী?

বিধানসভার নতুন স্পিকার হিসেবে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম মনোনীত করে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার রথীন্দ্রনাথের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি গত জমানার প্রসঙ্গ টেনে শাসক শিবিরকে বিঁধেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনে বিধানসভা এমন একজন স্পিকার পাবে, যিনি বিরোধী দলনেতাকে অকারণে সাড়ে ১১ মাস কক্ষের বাইরে রাখবেন না। উল্লেখ্য, গত পাঁচ বছরে শুভেন্দু অধিকারীকে বিরোধী দলনেতা হিসেবে পাঁচবার সাসপেনশন ও দীর্ঘ সময় বিধানসভার বাইরে কাটানোর ঝক্কি পোহাতে হয়েছিল।

সঙ্ঘের ঘরানা ও আনুগত্যের স্বীকৃতি

পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রথীন্দ্রনাথ বসু বিজেপির ‘আদি’ নেতা এবং সঙ্ঘ পরিবারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই নেতার সবচেয়ে বড় গুণ হিসেবে ধরা হয় দলের প্রতি তাঁর প্রশ্নাতীত আনুগত্যকে। এর আগে রাজ্যসভার নির্বাচনে দলের প্রয়োজনে ‘ডামি’ প্রার্থী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছিলেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও সজ্জন ব্যক্তিকে স্পিকার পদে বসিয়ে বিজেপি নেতৃত্ব সংসদীয় শিষ্টাচার বজায় রাখার বার্তা দিতে চাইছেন।

বিধানসভার নিরপেক্ষতা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

রথীন্দ্রনাথের নাম প্রস্তাব করেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তাতে পূর্ণ সমর্থন জানান দিলীপ ঘোষসহ দলের শীর্ষ বিধায়করা। শুভেন্দুর মতে, রথীনবাবুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বিধানসভার মর্যাদা ও নিরপেক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একদিকে যেমন উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হলো, তেমনই বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে বিরোধীদের কণ্ঠস্বরকে আরও বেশি জায়গা দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী শুক্রবার আনুষ্ঠানিক নির্বাচনের পর স্পষ্ট হবে নতুন স্পিকারের হাত ধরে বিধানসভার অন্দরে ঠিক কতটা পরিবর্তনের হাওয়া লাগে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *