বিশ্ববাজারে অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ মূল্যবৃদ্ধি রুখতে চিনি রফতানি বন্ধ করল ভারত
দেশের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে দাম ধরে রাখতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। অবিলম্বে কাঁচা, সাদা এবং পরিশোধিত চিনি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (DGFT) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে দেশের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈশ্বিক সংকট
ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পশ্চিম এশিয়ায় শুরু হওয়া অস্থিরতা থামার কোনো লক্ষণ নেই, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থায়। এই পরিস্থিতিতে দেশের মজুত সুরক্ষিত রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। কেন্দ্রীয় সূত্রের খবর, আগামী মরসুমে ‘এল নিনো’র প্রভাবে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষা ঠিকমতো না হলে আখ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা চিনির বাজারে সংকট তৈরি করার জন্য যথেষ্ট। এছাড়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সারের জোগান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় আগাম সতর্কতা হিসেবেই রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড় ও আগামীর প্রভাব
রফতানি বন্ধ হলেও কিছু সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকায় নির্ধারিত কোটার আওতায় চিনি পাঠানো যাবে। পাশাপাশি সরকার-টু-সরকার চুক্তি এবং ১৩ মে-র আগে যে সমস্ত চালানের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল, সেগুলি নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, সোনার আমদানি শুল্ক বাড়ানো এবং চিনি রফতানি বন্ধের মতো সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে সরকার বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া। এই সিদ্ধান্তের ফলে উৎসবের মরসুমের আগে দেশের বাজারে চিনির দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।