হিজাব ফিরতেই কর্নাটকে নতুন ঝড়! বিজেপির পুরনো নির্দেশে বড়সড় বদল কংগ্রেসের
কর্নাটকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরার ওপর থেকে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল রাজ্যের বর্তমান কংগ্রেস সরকার। বুধবার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মধু বাঙ্গারাপ্পা হিজাব ফেরানোর বিষয়ে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে ছাত্রীরা এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ইউনিফর্মের সঙ্গে হিজাব পরিধান করার সুযোগ পাবেন। ২০২২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিজেপি সরকার হিজাব নিষিদ্ধ করার যে নির্দেশ দিয়েছিল, নতুন এই ঘোষণার মাধ্যমে তা আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো।
রাজনৈতিক পটভূমি ও কৌশলগত পরিবর্তন
বিগত বিজেপি সরকারের হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি সে সময় কেবল কর্নাটকেই নয়, বরং উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতেও ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল। কর্নাটক হাইকোর্ট এই নিষেধাজ্ঞাকে বৈধতা দিলেও সুপ্রিম কোর্টে দুই বিচারপতির ভিন্নমতের কারণে বিষয়টি ঝুলে ছিল। কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর ভোট পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় দীর্ঘ সময় আদালত ও আইনি জটিলতার দোহাই দিয়ে নীরব থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে মুসলিম সম্প্রদায়ের অসন্তোষ এবং শাসক দলের ভোটব্যাংকে ফাটল ধরার বিষয়টি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ত্বরান্বিত করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল।
সামাজিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি
রাজ্যের মুসলিম সংগঠনগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং সরকারের ওপর পশ্চাৎপদ শ্রেণির বঞ্চনার অভিযোগ দূর করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে হিন্দু ভোট হারানোর আশঙ্কায় সিদ্দারামাইয়া সরকার কিছুটা কৌশলী অবস্থান নিলেও, মুসলিম সমাজের তীব্র প্রতিক্রিয়ার মুখে তারা পুনরায় হিজাব ব্যবহারের অনুমতি দিল। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জোরালো হচ্ছে, অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইউনিফর্ম বিধি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার ফলে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্র ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।