বিধানসভায় সপাটে পাল্টা দিলেন নয়না, জয় শ্রীরামের জবাবে শপথ কক্ষে উঠল জয় বাংলা স্লোগান
রাজ্য বিধানসভার অলিন্দে শপথগ্রহণ পর্বকে কেন্দ্র করে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্তাপের সৃষ্টি হলো। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বৃহস্পতিবার জয়ী প্রার্থীদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ছিল ঘটনাবহুল। এদিন চৌরঙ্গী কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নিতে উঠলে বিজেপি বিধায়কদের পক্ষ থেকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান দেওয়া হয়। তবে দমে না গিয়ে নয়নাও পালটা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বিধানসভায় স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান
বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাওয়ের নেতৃত্বে এদিন শাসক শিবিরের উল্লাস যখন তুঙ্গে, তখনই বিধানসভা কক্ষে প্রবেশ করেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ধ্বনিত হতে থাকে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান। এর পাল্টা হিসেবে নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় দৃঢ় কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দেন। বেশ কিছুক্ষণ দুই শিবিরের মধ্যে এই স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান চলার পর তিনি বিধায়ক হিসেবে তাঁর শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল যে বিধানসভার ভেতরেও আগ্রাসী ভূমিকা বজায় রাখতে চায়, এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত।
তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নতুন সমীকরণ
বিধানসভা নির্বাচনের ফল বিপর্যয়ের পর এবার বিরোধী আসনে বসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিনই তৃণমূলের পরিষদীয় দলের নতুন নেতৃত্বের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। অভিজ্ঞ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিষদীয় দলে নারী শক্তির প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে উপবিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ফিরহাদ হাকিম সামলাবেন মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব।
স্পিকার পদে উত্তরবঙ্গের নতুন মুখ
শপথগ্রহণের এই আবহে রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বা স্পিকার পদের জন্য রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম চূড়ান্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গের কোচবিহার দক্ষিণের এই বিধায়ক পেশায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট। শুভেন্দু অধিকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নাম প্রস্তাব করে জানান যে, সংসদীয় ঐতিহ্য ও বিধানসভার গরিমা রক্ষায় রথীন্দ্রনাথ বসুর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আগামী শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, নতুন সরকার ও শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতিতে আগামী দিনে বিধানসভার অধিবেশন যথেষ্ট উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।