হরমুজে ড্রোন হামলা, মুহূর্তে জলের তলায় ভারতীয় জাহাজ! কীভাবে বাঁচলেন ১৪ জন?
আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফের রণক্ষেত্রের ছায়া। এবার হরমুজ প্রণালীতে ড্রোন হামলার শিকার হলো ভারতের বাণিজ্যিক জাহাজ ‘হাজি আলি’। বুধবার গভীর রাতে ওমানের লিমা উপকূলের কাছে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরকের আঘাতে জাহাজটি মাঝসমুদ্রে তলিয়ে গেলেও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন ১৪ জন ভারতীয় নাবিক। গুজরাতের দেবভূমি দ্বারকা জেলার সালায়া বন্দরে নথিভুক্ত এই জাহাজটি সোমালিয়া থেকে গবাদি পশু নিয়ে শারজার দিকে যাচ্ছিল। রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ আচমকা ড্রোন বা মিসাইল আছড়ে পড়লে জাহাজটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা সমুদ্রের গভীরে তলিয়ে যায়।
মৃত্যুপুরী থেকে ১৪ নাবিকের রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার
হামলার সময় জাহাজে একজন ক্যাপ্টেনসহ মোট ১৪ জন কর্মী ছিলেন। চোখের সামনে জাহাজ ডুবতে দেখেও হাড়হিম করা সাহসিকতার পরিচয় দেন তাঁরা। লাইফবোটে চড়ে কোনোমতে প্রাণ বাঁচান এই ভারতীয় কর্মীরা। পরবর্তীতে ওমান কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জাহাজের মালিক পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে সব কর্মীরাই সুরক্ষিত আছেন। তবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুজরাতের দ্বিতীয় কোনো জাহাজ এভাবে হামলার শিকার হওয়ায় সমুদ্রপথে যাতায়াতে বড়সড় নিরাপত্তার প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক জলসীমা ও ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ
২০২৬ সালে ইরান-আমেরিকা সংঘাতের আবহে হরমুজ প্রণালী এখন কার্যত বারুদের স্তূপ। বাণিজ্যিক জাহাজ ও সাধারণ নাবিকদের ওপর এই নিরন্তর আক্রমণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। অসামরিক জাহাজগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক জলসীমার নিয়মের পরিপন্থী বলে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকার ‘অপারেশন উর্জা সুরক্ষা’র মাধ্যমে নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে প্রতিনিয়ত। উত্তাল সমুদ্রের এই অস্থিরতা এখন কেবল বাণিজ্যিক ক্ষতি নয়, বরং বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।