অবৈধ পার্কিং ও তোলাবাজি রুখতে কড়া পদক্ষেপ, শহর পরিষ্কারে নামছে অত্যাধুনিক অ্যাপ
রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বড়সড় রদবদল ও স্বচ্ছতা আনতে এবার ময়দানে নামলেন নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে এবং রাস্তার শৃঙ্খলা ফেরাতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। বিশেষ করে অবৈধ পার্কিংয়ের জমানো জট এবং পার্কিংয়ের নামে চলা আর্থিক দুর্নীতি রুখতে সরকার এখন আপসহীন অবস্থানে।
পার্কিংয়ে স্বচ্ছতা ও তোলাবাজি বন্ধের নির্দেশ
মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাস্তার দু’পাশে যত্রতত্র গাড়ি রাখার দিন শেষ। এখন থেকে শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত নির্দিষ্ট স্থানেই গাড়ি পার্ক করা যাবে, অন্যথায় তা অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে ভুয়ো পার্কিং রসিদ নিয়ে। অভিযোগ উঠেছে, বিগত দিনে এক শ্রেণির অসাধু চক্র জাল স্লিপ ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা হাতিয়ে নিত, যা সরকারি কোষাগারে জমা পড়ত না। এই তোলাবাজি বন্ধ করতে প্রতিটি পার্কিং লটে সরকারের অনুমোদিত রেট চার্ট টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সঠিক মূল্য জানতে পারবেন এবং প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।
পরিচ্ছন্নতায় আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ হেল্পলাইন
বাংলার রাস্তাঘাট আবর্জনা মুক্ত রাখতে এবার ‘জিও-ট্যাগিং’ প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছে প্রশাসন। দ্রুত একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষ রাস্তার ধারের ময়লার ছবি তুলে পাঠাতে পারবেন। অ্যাপে ছবি আপলোড হওয়ার মাত্র ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সেই স্থান পরিষ্কার করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির এই ব্যবহার নাগরিক পরিষেবাকে আরও দ্রুতগামী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বরও চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। যে কোনও বিপদে বা সমস্যায় সাধারণ মানুষ সরাসরি প্রশাসনের সহযোগিতা পাবেন। সরকারের এই সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন যানজট ও দুর্নীতি কমবে, অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জনপরিষেবা আরও উন্নত ও গতিশীল হয়ে উঠবে।