তীব্র দাবদাহে পকেটেও টান, আর্থিক সুরক্ষা দিতে আসছে তাপবিমা
জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে প্রতি বছরই ভারতের তাপমাত্রার পারদ নতুন রেকর্ড স্পর্শ করছে। দীর্ঘস্থায়ী হিটওয়েভ এখন কেবল শারীরিক অস্বস্তির কারণ নয়, বরং সাধারণ মানুষের জনজীবন ও অর্থনীতির ওপর বড়সড় আঘাত হানছে। এই চরম আবহাওয়ার মোকাবিলায় এবং ক্রমবর্ধমান আর্থিক ঝুঁকি কমাতে বর্তমানে বিশেষ এক রক্ষাকবচ হিসেবে উঠে আসছে ‘হিট ইনস্যুরেন্স’ বা তাপবিমা। বিশেষ করে রোদে কাজ করা শ্রমিক থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই বিমা আগামী দিনে অপরিহার্য হয়ে উঠতে পারে।
আর্থিক ঝুঁকির ঢাল ও প্যারামেট্রিক মডেল
হিট ইনস্যুরেন্স মূলত এমন একটি বিমা ব্যবস্থা, যা প্রচণ্ড গরমের কারণে হওয়া স্বাস্থ্যহানি এবং কর্মক্ষমতা নষ্ট হওয়ার বিপরীতে আর্থিক সুরক্ষা দেয়। এটি সাধারণ স্বাস্থ্যবিমার চেয়ে কিছুটা আলাদা। বিশেষজ্ঞরা একে ‘প্যারামেট্রিক ইনস্যুরেন্স’ বলছেন, যেখানে বিমার টাকা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ আইনি জটিলতার প্রয়োজন হয় না। কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় তাপমাত্রা যদি টানা কয়েক দিন একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে, তবে গ্রাহক সরাসরি বিমার অর্থ পাওয়ার যোগ্য হতে পারেন। এর ফলে হিট স্ট্রোক, তীব্র ডিহাইড্রেশন কিংবা কিডনির সমস্যার মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সংকটে দ্রুত চিকিৎসার খরচ মেটানো সম্ভব হয়।
যাঁদের জন্য এই বিমা সবচেয়ে জরুরি
তীব্র গরমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ এবং যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন। ডেলিভারি বয়, নির্মাণ শ্রমিক, কৃষক এবং কারখানা কর্মীদের আয়ের ওপর হিটওয়েভ সরাসরি প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত গরমে কাজে বের হতে না পারলে যে আয়ের ক্ষতি হয়, এই বিমার মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ পাওয়া সম্ভব। এছাড়া প্রবীণ নাগরিক এবং হৃদরোগ বা স্নায়ুর সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য হাসপাতালের খরচ সামলানোও সহজ হয় এই বিমার মাধ্যমে।
প্রয়োজন ও বিমা গ্রহণের সতর্কতা
ভারতে এই পরিষেবা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এলাকাভেদে এর প্রিমিয়াম ভিন্ন হতে পারে। বিমা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন তাপমাত্রায় পলিসি কার্যকর হবে এবং এতে হাসপাতালের খরচ বা আয় হ্রাসের ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত কি না, তা যাচাই করা জরুরি। জলবায়ু পরিবর্তনের যে ভয়াবহ রূপ বর্তমান বিশ্বে দেখা যাচ্ছে, তাতে সচেতনতার পাশাপাশি এমন আধুনিক বিমা ব্যবস্থা ভবিষ্যতে একটি নির্ভরযোগ্য আর্থিক ঢাল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।