হাই কোর্টে মমতার সওয়াল, ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় রাজ্যের হলফনামা তলব

কলকাতা হাই কোর্টের এজলাসে আইনজীবীর পোশাকে হাজির হয়ে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় সওয়াল করলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। মামলার গুরুত্ব বিচার করে আদালত আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের কাছে হলফনামা তলব করেছে। একইসঙ্গে হিংসার কারণে কেউ বাড়ি বা দোকান থেকে উচ্ছেদ হয়ে থাকলে দ্রুত তাঁদের পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

এজলাসে সওয়াল ও অভিযোগ

শুনানির শুরুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ১৯৮৫ সাল থেকে পেশাদার আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে সওয়াল করার অনুমতি প্রার্থনা করেন। সওয়াল চলাকালীন তিনি অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে বুলডোজার সংস্কৃতি চালানোর চেষ্টা হচ্ছে এবং তফশিলি জাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ১৮ বছরের দম্পতি থেকে শুরু করে ৯২ বছরের বৃদ্ধকেও ভিটেমাটি ছাড়া করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগের মূল লক্ষ্য ছিল রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হীনতা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও অংশগ্রহণ করেন।

আদালতের নির্দেশ ও প্রভাব

প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক হিংসার জেরে কোনও নাগরিককে উচ্ছেদ করা যাবে না। যারা ঘরছাড়া হয়েছেন, তাঁদের সসম্মানে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব প্রশাসনের। এই মামলার প্রেক্ষিতে তিন সপ্তাহ পর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি আদালতে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করা এবং হাই কোর্টের হলফনামা তলব রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা এখন আদালতের কড়া নজরদারির আওতায় চলে এল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *