ট্রাম্পকে কাছে টেনে ঠিক কী চাইছেন শি জিনপিং? নতুন সমীকরণে তোলপাড় বিশ্বরাজনীতি
বিশ্বের দুই মহাশক্তিধর রাষ্ট্রের প্রধানদের এক মঞ্চে উপস্থিতি ঘিরে বর্তমানে সরগরম আন্তর্জাতিক রাজনীতি। বেজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এক বিশেষ রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখোমুখি হয়ে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। হাতে ওয়াইনের গ্লাস উঁচিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চিনের নবজীবন এবং ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ লক্ষ্য আদতে একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। জিনপিংয়ের মতে, এই দুই বৃহৎ অর্থনীতির সম্পর্ক আজ বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সমীকরণ এবং একে সফল করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পথ নেই।
সহযোগিতার হাত না কি কৌশলগত অবস্থান
বিগত কয়েক বছর ধরে বাণিজ্য যুদ্ধ, পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক তিক্ততায় তলানিতে ঠেকেছিল ওয়াশিংটন-বেজিং সম্পর্ক। এই আবহে জিনপিংয়ের মুখে বন্ধুত্বের সুর বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, দুই দেশের সংঘাতে উভয়েরই ক্ষতি হবে, পক্ষান্তরে সহযোগিতা করলে লাভবান হবে গোটা বিশ্ব। শত্রুর বদলে বন্ধু হওয়ার এই আহ্বান ট্রাম্পের জমানায় নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
তাইওয়ান ইস্যু ও সম্পর্কের ভবিষ্যৎ
নরম সুরে বন্ধুত্বের কথা বললেও শি জিনপিং সরাসরি কঠিন বাস্তবটি মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি। ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার আগে তিনি সতর্ক করেছেন যে, চিন-আমেরিকা সম্পর্কের সবথেকে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তাইওয়ান ইস্যু। এই বিষয়টি সঠিকভাবে মোকাবিলা না করলে যে কোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তাইপেইকে মার্কিন সামরিক ও রাজনৈতিক সমর্থন দেওয়ার বিষয়টিকে চিন বরাবরই তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে মনে করে আসছে।
বেজিংয়ের এই ‘নরমে-গরমে’ বার্তার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে এবং ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় কতটা প্রতিফলিত হয়, তা নির্ভর করছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। জিনপিংয়ের এই কৌশলী অবস্থান একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সহযোগিতার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক তেমনই নিজের দেশের রেড লাইন বা সীমারেখাও স্পষ্ট করে দিয়েছে।