বিধানসভায় ফিরহাদ-হুমায়ুনের কোলাকুলি, তিক্ততা ভুলে কি শুরু নতুন সমীকরণ!
রাজ্য রাজনীতিতে এক সময়ের সতীর্থ, তারপর প্রবল বিরোধী— ফিরহাদ হাকিম ও হুমায়ুন কবীরের সম্পর্কের সমীকরণ কি তবে ফের বদলাতে শুরু করেছে? দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত আর কাদা ছোড়াছুড়ির অধ্যায় সরিয়ে রেখে বিধানসভার প্রথম দিনেই দেখা গেল এক নজিরবিহীন দৃশ্য। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে হাসিমুখে জড়িয়ে ধরলেন তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। কুশল বিনিময় করে ফিরহাদ জিজ্ঞেস করেন, “ভাল আছ?” এই সৌজন্য সাক্ষাৎ ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সৌজন্যের আড়ালে রাজনৈতিক বার্তা
বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলীয় কোন্দল ও হুমায়ুনের দলত্যাগকে কেন্দ্র করে দুই নেতার দূরত্ব চরমে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে বিধানসভার চিত্রটা ভিন্ন। তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ফিরহাদ হাকিম এদিন যথেষ্ট নমনীয় মেজাজে ছিলেন। অন্যদিকে, নওদা ও রেজিনগর দুই কেন্দ্রেই জয়ী হওয়া হুমায়ুন কবীর এদিন বিধানসভায় উপস্থিত হয়েছিলেন বিপুল পরিমাণ মিষ্টি নিয়ে। বিরোধী আসনে বসেও ফিরহাদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং গঠনমূলক বিরোধিতা করাই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। জীবনের পরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাজনীতিতে কোনো কিছুই চিরস্থায়ী নয়।
নতুন সরকারের পথে নজর
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সৌজন্য সাক্ষাতের গভীর প্রভাব পড়তে পারে আগামী দিনের পরিষদীয় রাজনীতিতে। একদিকে ফিরহাদ হাকিম যেমন অভিজ্ঞ বিরোধী নেতার ভূমিকা পালনের সংকল্প নিয়েছেন, অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও এদিন কোলাকুলি করতে দেখা যায় হুমায়ুনকে। নিজের জয়ের দাপট বজায় রেখে হুমায়ুন আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকার মানুষের জন্য ভালো কাজ করবে। বিধানসভার অন্দরে এই ব্যক্তিগত সৌজন্য ও রাজনৈতিক অবস্থানের বদল আগামী দিনে শাসক-বিরোধী সম্পর্কের ধরনে নতুন কোনো মোড় আনে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।