বাংলায় এক কোটি মহিলার হাতে পৌঁছাবে বিনামূল্যে গ্যাস, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পরপরই জনকল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নবগঠিত বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা এখন থেকে বাংলার মানুষ সরাসরি পাবেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০ প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মহিলার কপাল খুলতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সারা দেশে যেখানে ১১ কোটি মহিলা উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধা পাচ্ছেন, সেখানে বাংলায় যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও মাত্র ১১ লক্ষ মহিলা এই সুবিধা পাচ্ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বতন সরকার আবেদনপত্রগুলি যথাযথভাবে না পাঠানোয় কয়েক লক্ষ আবেদন গ্রাহক বিতরণ কেন্দ্রে পড়ে ছিল। বর্তমান সরকার সেই বকেয়া আবেদনগুলি ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে, যার ফলে খুব দ্রুত বিপুল সংখ্যক মহিলা এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
উজ্জ্বলা যোজনার বিশেষ সুবিধা ও ভর্তুকি
প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা ৩.০-এর আওতায় কেন্দ্র সরকার ইতিমধ্যে ২৫ লক্ষ নতুন নাম নথিভুক্ত করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা মহিলারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এলপিজি সংযোগ পাবেন। শুধু সংযোগই নয়, প্রথম এলপিজি সিলিন্ডার এবং একটি গ্যাস স্টোভও মিলবে নিখরচায়। এর পাশাপাশি বছরে ১২টি রিফিল পর্যন্ত প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। একটি ১৪.২ কেজি সিলিন্ডার সংযোগের জন্য কেন্দ্র ২০৫০ টাকা এবং ৫ কেজি সিলিন্ডারের জন্য ১৩০০ টাকার আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেছে।
আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এই সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী মহিলা হতে হবে এবং তাকে বিপিএল তালিকাভুক্ত হতে হবে। আবেদনকারীর নামে আগে থেকে অন্য কোনো সরকারি এলপিজি সংযোগ থাকা চলবে না। আবেদনের জন্য আধার কার্ড, ঠিকানার প্রমাণপত্র, বিপিএল শংসাপত্র বা রেশন কার্ড এবং নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রয়োজন।
অনলাইনে আবেদন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (pmuy.gov.in) ব্যবহার করা যাবে। এছাড়া নিকটস্থ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়েও আবেদন জমা দেওয়া সম্ভব। আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে স্থানীয় ডিস্ট্রিবিউটর নথিপত্র যাচাই করবেন এবং যোগ্য প্রার্থীদের হাতে গ্যাসের সংযোগ তুলে দেবেন। সরকারের এই পদক্ষেপে রাজ্যের নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার খরচ কমবে এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।