বিয়ের উপহারে সোনা নয়, আভিজাত্য বাড়াবে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী গয়না

বর্তমান সময়ে সোনার আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে সোনা কেনায় সরকারি সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাঙালি বিয়েতে জৌলুস বজায় রাখতে সোনার বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের লোকজ ও ঐতিহ্যবাহী গয়না। কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী— দেশের প্রতিটি প্রান্তের এসব গয়না কারুকাজ ও ঐতিহ্যে সোনার আভিজাত্যকেও হার মানাতে সক্ষম।

কাশ্মীরের দেঝুর ও রাজস্থানের রাজকীয় শৈলী

কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের বিয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ‘দেঝুর’, যা মূলত শিব ও শক্তির মিলনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। লম্বা চেনের নিচে লকেটযুক্ত এই কানের দুল রূপো বা অন্যান্য ধাতুর ওপর সূক্ষ্ম কারুকাজে অনন্য হয়ে ওঠে। অন্যদিকে রাজস্থানের ‘থেওয়া’ শিল্প মোগল আমলের আভিজাত্য বহন করে। রঙিন কাচের ওপর সোনার পাত বা সুতোর কাজ করা এই গয়না উপহার হিসেবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। রাজস্থানের আরেক জনপ্রিয় গয়না ‘কুন্দন’ এখন সোনা ছাড়াও বিভিন্ন ধাতুর ওপর পাথর ও কাচ বসিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে আভিজাত্যের ছোঁয়া দিচ্ছে।

দক্ষিণের মন্দির স্থাপত্য ও মরাঠা আভিজাত্য

দক্ষিণ ভারতের ‘টেম্পল জুয়েলারি’ চোল ও বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ভাস্কর্য থেকে অনুপ্রাণিত। দেবদেবীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা এই গয়না এখন তামা ও সোনার প্রলেপেও পাওয়া যায়। হাতের সাজের জন্য দক্ষিণের ‘ভাঙ্কি’ বা ভি-আকৃতির বাজুবন্ধ বিয়ের উপহারে যোগ করতে পারে নতুন মাত্রা। মহারাষ্ট্রের বিয়ের ঐতিহ্য হলো ‘থুসি’ হার, যা ছোট ছোট বল গেঁথে তৈরি করা হয়। মরাঠা রাজপরিবারের এই শৈলী এখন আধুনিক কনেদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে।

পূর্ব ভারতের সূক্ষ্ম কারুকাজ ও অন্যান্য লোকজ গয়না

ওড়িশার কটকের বিখ্যাত ‘ফিলিগ্রি’ বা তরাকশি শিল্প প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। রুপোর অত্যন্ত সরু তার দিয়ে তৈরি এই গয়নাগুলোতে মন্দিরের নকশা ও প্রকৃতির রূপ ফুটে ওঠে। অসমের অর্ধচন্দ্রাকার ‘জুনবিরি’ এবং গুজরাতের ‘পাচ্চিকাম’ শিল্পও সোনার বিকল্প হিসেবে অনন্য। পাচ্চিকাম গয়না রুপোর ফ্রেমে পাথর বসিয়ে তৈরি হয়, যা দেখতে হিরের মতো উজ্জ্বল। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, বিয়েতে কেবল সোনা নয়, ভারতের এই বৈচিত্র্যময় গয়নাগুলো উপহার হিসেবে দিলে তা একদিকে যেমন রুচির পরিচয় দেবে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকেও সমৃদ্ধ করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *