ব্রিকস সম্মেলনে ইরান ও আমিরশাহির সংঘাত, হরমুজ় প্রণালী নিয়ে দিল্লির কড়া বার্তা
ভারতে আয়োজিত ব্রিকস সম্মেলনে দুই সদস্য রাষ্ট্র ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির বিদেশমন্ত্রীদের মধ্যে প্রকাশ্য বাদানুবাদ এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তেহরান ও আবু ধাবির মধ্যকার এই কূটনৈতিক সংঘাত নিরসনে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভকে মধ্যস্থতা করতে হয়। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের সাম্প্রতিক হামলা এবং তার প্রভাবে আমিরশাহিতে অস্থিরতা তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই দুই দেশের দীর্ঘদিনের চাপা উত্তেজনা এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রকাশ্যে চলে আসে।
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও কূটনৈতিক টানাপড়েন
সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকা ও ইজ়রায়েল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ চালানোর পর থেকে পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এর পাল্টা হিসেবে ইরান সমর্থিত বাহিনীগুলি বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার আঁচ লাগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতেও। এই ধারাবাহিক সংঘাতের কারণে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। ব্রিকস সম্মেলনে সেই তিক্ততার প্রতিফলন দেখা দেওয়ায় জোটের সংহতি রক্ষায় নয়াদিল্লি কিছুটা অস্বস্তিতে পড়লেও আন্তর্জাতিক জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত।
হরমুজ় ও লোহিত সাগর নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান
দুই যুযুধান দেশের প্রতিনিধিকে পাশে রেখেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর হরমুজ় প্রণালী এবং লোহিত সাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ওমান উপকূলে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে হামলার ঘটনার রেশ টেনে তিনি সাফ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে বাধাহীন যাতায়াত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। কোনও বিশেষ দেশের নাম না নিলেও সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। জয়শঙ্করের এই বক্তব্যকে পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার বিরুদ্ধে ভারতের একটি শক্তিশালী কৌশলগত অবস্থান হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।