‘আমেরিকা সত্যিই ক্ষয়িষ্ণু?’ শি জিনপিংয়ের মন্তব্যে সায় দিয়ে বাইডেনকে তুলোধোনা ট্রাম্পের

চিন সফরে গিয়ে নিজের দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি পরোক্ষ মন্তব্যকে হাতিয়ার করে জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন বিগত প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, বাইডেনের আমলে আমেরিকা প্রকৃতপক্ষে একটি ‘ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্র’ হিসেবে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি পেয়েছে এবং জিনপিংয়ের এই মূল্যায়ন শতভাগ সঠিক।

জিনপিংয়ের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ও ট্রাম্পের সমর্থন

বেজিঙে ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রাক্কালে শি জিনপিং বিশ্ব রাজনীতির পালাবদল নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি গ্রিক ইতিহাসের ‘থুকিডিডিস ফাঁদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে আমেরিকার যে একক আধিপত্য ছিল, বর্তমান শতাব্দীতে তার আমূল পরিবর্তন ঘটতে চলেছে। জিনপিংয়ের এই বক্তব্যকে আমেরিকার পতন হিসেবেই দেখছেন ট্রাম্প। সামাজিক মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট জানান, প্রেসিডেন্ট শি যখন আমেরিকাকে ক্ষয়িষ্ণু দেশ বলছেন, তখন তিনি মূলত জো বাইডেন ও তাঁর প্রশাসনের অযোগ্যতাকেই ইঙ্গিত করেছেন।

বাইডেনের ব্যর্থতা ও আত্মপ্রশংসায় ট্রাম্প

সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ‘ঘুমন্ত’ বলে কটাক্ষ করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে আমেরিকার বাণিজ্য নীতি থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ অপরাধ দমন— সব ক্ষেত্রেই দেশটি পিছিয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের মতে, ত্রুটিপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি এবং দুর্বল নেতৃত্বের কারণেই বৈশ্বিক অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের প্রভাব ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তবে একই সঙ্গে নিজের সরকারের গত ১৬ মাসের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে তিনি দাবি করেন, তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণেই আমেরিকা বর্তমানে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, নিজ দেশের মাটিকে দাঁড়িয়ে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের নেতিবাচক মন্তব্যকে সমর্থন করা এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনকে দায়ী করার এই ঘটনা আমেরিকার অভ্যন্তরীণ মেরুকরণকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। শি জিনপিংয়ের ‘বিশ্ব এক নতুন সন্ধিক্ষণে’ দাঁড়িয়ে থাকার বার্তা এবং ট্রাম্পের সেই সুরে সুর মেলানো ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-বেজিং সম্পর্কের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। আমেরিকার একচেটিয়া দাপট কমে আসা এবং চিনের উদীয়মান শক্তির আস্ফালন বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন কোনো অস্থিরতার জন্ম দেয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *