‘আমাকে যেতে দিন…’ দিল্লির বাসে নির্যাতিতার আকুতির পরেও কেন থামেনি নরকযন্ত্রণা?

দেশের রাজধানীতে নারী নিরাপত্তা ফের তলানিতে। গত ১২ মে দিল্লির সুলতানপুরী এলাকায় চলন্ত বাসে এক মহিলার ওপর পাশবিক অত্যাচারের ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশ। অসুস্থ স্বামী এবং তিন নাবালিকা কন্যার দোহাই দিয়ে বারবার মুক্তি চাইলেও অভিযুক্তদের মন গলেনি। বরং নির্যাতিতাকে মারধর করে একের পর এক অভিযুক্ত ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই বাসচালক ও কন্ডাক্টরকে গ্রেফতার করেছে।

কৌশলে অপহরণ ও নারকীয় অত্যাচার

তদন্তে জানা গেছে, নির্যাতিতা ওই নারী তাঁর দাদার বাড়ি থেকে কাজ সেরে ফেরার সময় বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একটি বেসরকারি বাস সেখানে দাঁড়ালে তিনি কেবল সময় জানতে চেয়েছিলেন। সেই সুযোগে অভিযুক্তরা তাঁকে জোরপূর্বক বাসের ভেতরে টেনে নিয়ে যায় এবং বাসটি চলতে শুরু করে। বাসের ভেতরেই পিছনের আসনে তাঁকে প্রথম দফায় লাঞ্ছিত করা হয়। পরবর্তীকালে নাংলোই রেলস্টেশনের কাছে বাস থামিয়ে চালকও তাঁকে ধর্ষণ করে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর মুখ চেপে ধরে মারধর করা হয়।

মুক্তি পেতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি ও পুলিশের তৎপরতা

আক্রান্ত নারী জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে এবং বাড়িতে থাকা তিন মেয়ের মুখ চেয়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে মিনতি করেছিলেন। এমনকি পুলিশে অভিযোগ করবেন না— এই শর্ত দেওয়ার পর অভিযুক্তরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থল থেকে কন্ডাক্টরকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। নির্যাতিতাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত চালক ও কন্ডাক্টর উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।

নিরাপত্তা নিয়ে ঘনীভূত উদ্বেগ

দিল্লির রাজপথে ফের চলন্ত বাসে এই ধরনের অপরাধ প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি পরিবহণ ব্যবস্থায় নারী সুরক্ষায় কী কী খামতি রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অভিযুক্তদের দ্রুত কঠোর শাস্তির আওতায় আনতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে প্রশাসন। এই ঘটনা রাজধানীর বুকে নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতিকে আরও একবার উসকে দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *