সোনালি স্মার্টফোনের মোহ ভেঙে জনরোষের মুখে ট্রাম্প পরিবার, উধাও কোটি কোটি ডলার!

সোনালি স্মার্টফোন ‘টি১’ বাজারে আনার নাম করে কয়েক কোটি ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই পুত্র ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং এরিক ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ঘটা করে এই ফোনের প্রচার শুরু হলেও বছর ঘুরতে চললেও গ্রাহকরা ফোনের দেখা পাননি। উল্টোদিকে ট্রাম্পের সংস্থা থেকে টাকা ফেরত দেওয়ার কোনো সদর্থক বার্তা না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন কয়েক লক্ষ আমেরিকান। এই ঘটনায় খোদ প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সোনালি ফোনের ফাঁদ ও আর্থিক অনিয়ম

ট্রাম্পের পারিবারিক সংস্থা ঘোষণা করেছিল যে, সম্পূর্ণ সোনালি রঙের এই স্মার্টফোনটির বাজারমূল্য হবে ৪৯৯ ডলার। ডিভাইসটি হাতে পেতে কয়েক লক্ষ অনুরাগী ১০০ ডলার করে অগ্রিম জমা দিয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৬ লক্ষ আমেরিকাবাসীর থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৬ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে ট্রাম্পের দুই পুত্রের সংস্থা। শুরুতে ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে ফোনটি বাজারে আসার কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে ২০২৬ সালের জানুয়ারি করা হয়। কিন্তু বর্তমানে মে মাস চললেও ফোনের সরবরাহ বা অর্থ ফেরতের কোনো লক্ষণ নেই। উল্টোদিকে সংস্থার ওয়েবসাইটের শর্তাবলীতে জানানো হয়েছে, অগ্রিম টাকা জমা দেওয়া মানেই যে পণ্যটি পাওয়া যাবে বা বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

আর্থিক বিপর্যয় ও রাজনৈতিক প্রভাব

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ট্রাম্প মিডিয়া ও টেকনোলজি গ্রুপের সাম্প্রতিক বিশাল আর্থিক লোকসানই এই সংকটের মূলে। ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে সংস্থাটি প্রায় ৪০ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। ক্রিপ্টো মুদ্রায় বিপুল বিনিয়োগ এবং রাজস্ব কমে যাওয়ায় সংস্থাটি কার্যত অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে। এই আর্থিক টালবাহানার কারণেই স্মার্টফোন প্রকল্পটি বিশ বাঁও জলে চলে গিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

সামনেই ২০২৬ সালের নভেম্বরে আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন। শুল্ক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে এমনিতেই ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী। এর মধ্যে খোদ সমর্থকদের সঙ্গে এমন ‘প্রতারণা’র অভিযোগ রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ‘কোথায় গেল আমার ট্রাম্প ফোন’ শীর্ষক প্রচার শুরু করেছেন, যা আগামী দিনে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে ট্রাম্প পরিবারকে চরম অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *