মস্তিষ্ক সচল রাখার ম্যাজিক রয়েছে আপনার দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসেই

বয়স বাড়লেও মনের বয়স ধরে রাখতে ‘মাথার বয়স’ বা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখা সবচেয়ে জরুরি। বর্তমানের ব্যস্ত ও মানসিক চাপযুক্ত জীবনে অনেকেই অল্প বয়সে স্মৃতিশক্তি হ্রাস বা খিটখিটে মেজাজের সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মস্তিষ্ককে যত বেশি সক্রিয় রাখা যাবে, এর কার্যক্ষমতা ততই বৃদ্ধি পাবে। অলস বসে না থেকে প্রতিনিয়ত নতুন কোনো কাজের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে রাখাই হতে পারে এর অন্যতম প্রধান সমাধান।
সৃজনশীলতা ও নতুন কিছু শেখার প্রভাব
মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখার সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো নিয়মিত নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করা। চিকিৎসকদের মতে, নতুন কোনো ভাষা শেখা অথবা যেকোনো একটি বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখলে মস্তিষ্কে ইতিবাচক উদ্দীপনা তৈরি হয়। বিশেষ করে সঙ্গীত মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সচল রাখতে দারুণ সাহায্য করে। এর পাশাপাশি প্রতিদিনের তালিকায় কিছুটা সময় ছবি আঁকার জন্য বরাদ্দ রাখলে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। কোনো কাজ না করে দীর্ঘদিন অলস ও উদাসীন থাকলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। এর পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা, সাঁতার বা হালকা অ্যারোবিক ব্যায়াম এবং সামাজিক মেলামেশা মস্তিষ্কের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে।
নেতিবাচক অভ্যাস ও অপরিমিত ঘুমের ক্ষতি
অতিরিক্ত মদ্যপান মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক, যা সরাসরি মগজকে সংকুচিত করে ফেলতে পারে। এর ফলে হ্যালুসিনেশন, স্মৃতিভ্রম এবং অ্যালজাইমার্সের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অন্যদিকে, ধূমপানের কারণে শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়ে, যা রক্তের ধমনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। পরোক্ষ ধূমপানও চারপাশের মানুষের মস্তিষ্কের সমপরিমাণ ক্ষতি করে। এছাড়া দৈনিক পর্যাপ্ত ঘুম না হলে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক রোগ বাসা বাঁধে, যা পরোক্ষভাবে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়।
প্রয়োজনীয় ডায়েট
মস্তিষ্কের পুষ্টির জন্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যুক্ত খাবার, প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ বীজ, আখরোট ও কাঠবাদাম প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখা আবশ্যক। এসব খাবার মস্তিষ্কের কোষ পুনর্গঠনে এবং স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে প্রধান জ্বালানি হিসেবে কাজ করে।