বেশি ঘুম ডেকে আনছে অকাল মৃত্যু! অতিরিক্ত বিশ্রামের মরণফাঁদ থেকে বাঁচার উপায় কী

ঘুম কম হলে শরীর খারাপ হয়, এই ধারণা কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুমোনো যে আসলে শরীরের জন্য আরও বড় বিপদ ডেকে আনছে, তা অনেকেই এড়িয়ে যান। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। চিকিৎসকদের মতে, কম ঘুমের মতোই অতিরিক্ত ঘুমও মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সমান ক্ষতিকর, যা শেষ পর্যন্ত অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ত্রিমাত্রিক সর্বনাশ ও ক্রনিক রোগের ঝুঁকি

গবেষকদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমোনো প্রয়োজন। কিন্তু যাঁরা নিয়মিত ৯ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমিয়ে কাটান এবং সেই সঙ্গে অলস জীবনযাপন করেন, তাঁদের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ঘুমের সাথে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা শরীরচর্চার অভাব যুক্ত হলে তৈরি হয় এক মারাত্মক পরিস্থিতি। এর ফলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের মতো ক্রনিক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সংক্রামক রোগের চেয়ে এই ধরনের অসংক্রামক লাইফস্টাইলজনিত রোগের কারণে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। প্রায় ১৪ লাখ মানুষের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত ঘুমানোর অভ্যাস মানুষের সামগ্রিক আয়ু কমিয়ে দেয় এবং দ্রুত মৃত্যুর আশঙ্কা ৩ শতাংশ বাড়িয়ে তোলে।

মানসিক বিপর্যয় ও স্থূলতার হাতছানি

অতিরিক্ত ঘুম শুধু শরীর নয়, মনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ২০১৮ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা দৈনিক ১০ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ঘুমোন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্ণতা ও অবসাদের লক্ষণ ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। এটি মানুষের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে এবং কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি, দীর্ঘ সময় শুয়ে-বসে থাকার ফলে শরীরের মেটাবলিজম কমে যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওজনে। অতিরিক্ত ঘুমানো মানুষের ওজন বৃদ্ধির হার ২৫ শতাংশ বেশি থাকে, যা পরবর্তীকালে স্থূলতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হৃদযন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি

নিয়মিত অতিরিক্ত ঘুম হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। প্রায় ৩ হাজার মানুষের ওপর চালানো একটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ঘুমোন, অন্যদের তুলনায় তাঁদের করোনারি আর্টারি বা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি দ্বিগুণ থাকে। চিকিৎসকদের মতে, সুস্থ ও দীর্ঘায়ু পেতে হলে কেবল পর্যাপ্ত ঘুমই যথেষ্ট নয়, বরং অতিরিক্ত ঘুমের অভ্যাস ত্যাগ করে দৈনিক জীবনযাত্রায় শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *