অবাধ ভোটাধিকার গণতন্ত্রের আসল স্তম্ভ, নিরপেক্ষ মনে হওয়াই স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের বড় পরীক্ষা!

দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের সম্পূর্ণ স্বাধীন হওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সম্প্রতি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের (ইসি) নিয়োগ সংক্রান্ত নতুন আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া কয়েকটি আবেদনের শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনকে কেবল মুখে নিরপেক্ষ হলে চলবে না, তাদের কাজের মাধ্যমেও সেই নিরপেক্ষতা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান ও প্রতীয়মান হতে হবে।

আইনি বিতর্ক ও শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার মূল সূত্রপাত ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে। তৎকালীন রায়ে বলা হয়েছিল, নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ কমিটিতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, লোকসভার বিরোধী দলনেতা এবং প্রধান বিচারপতি (সিজেআই)। তবে পরবর্তীতে সংসদ একটি নতুন আইন পাস করে প্রধান বিচারপতির পরিবর্তে একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রীকে সেই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করে, যা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। এই নতুন কাঠামোয় সরকারি প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা প্রকাশ করে আদালতে মামলা দায়ের হয়। বর্তমান শুনানিতে আদালত উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের প্যানেলে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দের ক্যাবিনেট মন্ত্রী থাকলে তা কমিশনের প্রকৃত নিরপেক্ষতার পরিপন্থী হয়ে উঠতে পারে।

কারণ ও সম্ভাব্য দূরগামী প্রভাব

সরকার পক্ষের আইনজীবী তথা অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি অবশ্য এই আইনের পক্ষে জোরালো সওয়াল করেছেন। তাঁর মতে, আইন প্রণয়নের পূর্ণ অধিকার সংসদের রয়েছে এবং যতক্ষণ না কমিশনের কার্যকলাপে কোনো পক্ষপাতিত্ব প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই আইনকে অবৈধ বলা চলে না। তবে সুপ্রিম কোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ। এই আইনের ভবিষ্যৎ এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতার পরিধি নির্ধারণে বিষয়টি আরও বৃহত্তর পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। আদালতের এই অবস্থানের ফলে আগামী দিনে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা রক্ষা এবং নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *