ভোটের আবহ কাটতেই মধ্যবিত্তের পকেটে টান, ‘ম্যাহেঙ্গাই ম্যান’ কটাক্ষে সরব বিরোধী শিবির
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই দেশজুড়ে এক ধাক্কায় বেশ খানিকটা বাড়ল পেট্রল, ডিজেল ও সিএনজির দাম। আমজনতা এবং রাজনৈতিক মহলের আশঙ্কাকে সত্যি করে শুক্রবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই বর্ধিত দর। আর এই মূল্যবৃদ্ধির ইস্যুটিকে হাতিয়ার করেই কেন্দ্রকে তীব্র নিশানা করেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘ম্যাহেঙ্গাই ম্যান’ বা ‘মূল্যবৃদ্ধির নায়ক’ বলে কটাক্ষ করে বিরোধী শিবির দাবি করেছে, নির্বাচন মিটতেই সরকারের আর্থিক ব্যর্থতার দায় সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া হলো।
শুক্রবার সকালে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যম এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়, দেশের জনগণের ওপর আবারও কঠোর শাসন শুরু করেছে মোদি সরকার। ভোট শেষ হতেই ভঙ্গুর আর্থিক পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারের নামে সাধারণ মানুষের পকেট কাটা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল ও ডিজেলের দাম লিটারপিছু একলাফে ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সেই সঙ্গে রান্নার ও পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত সিএনজির দামও কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
মেট্রো শহরগুলিতে মহার্ঘ জ্বালানি
শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর কলকাতার বাজারে পেট্রলের দাম দাঁড়িয়েছে লিটারপিছু ১০৮.৭৪ টাকা। অন্যদিকে, ডিজেলের দাম লিটারপিছু ৩ টাকা বেড়ে ছুঁয়েছে ৯৫.১৩ টাকা। দেশের রাজধানী দিল্লিতে সিএনজির দাম প্রতি কেজিতে ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাণিজ্যিক নগরী মুম্বইয়ের পাশাপাশি কলকাতাতেও সিএনজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ৩ টাকা করে। স্বভাবতই এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব বাজারের সংকট বনাম ভোটের রাজনীতি
দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকার পর হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বিশ্ব রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ কৌশল—উভয় কারণই স্পষ্ট। ২০২২ সাল থেকে দেশের বাজারে পেট্রল ও ডিজেলের দাম মোটের ওপর স্থিতিশীল ছিল। তবে চলতি বছরের শুরুতে, বিশেষ করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেও ভারতে প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে দাম বাড়ানো এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই এই কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছিল। খোদ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও আগেই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে ভোট মিটলেই দাম বাড়বে।
ভোটের প্রচারপর্ব চুকতেই যেভাবে জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দেওয়া হলো, তা আগামী দিনে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পণ্য পরিবহণ খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সমস্ত জরুরি পরিষেবার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
'महंगाई मैन' मोदी ने आज फिर जनता पर हंटर चलाया.
— Congress (@INCIndia) May 15, 2026
• पेट्रोल और डीजल 3-3 रुपए महंगा कर दिया गया
• वहीं, CNG के दाम भी 2 रुपए बढ़ा दिए गए
चुनाव खत्म – मोदी की वसूली शुरू