চল্লিশ বছরের চশমা বিদায়, নতুন দৃষ্টি পেলেন প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক!
শৈশব থেকেই চোখের চশমা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। প্রথম শ্রেণী থেকে শুরু হওয়া সেই চশমার ভারী কাঁচের আড়ালে যে এভাবে দৃষ্টিশক্তি খোয়ানোর আশঙ্কা তৈরি হবে, তা হয়তো ভাবেননি অভিনেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক। ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ হারিয়ে ফেলার এক চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের সফল লেজার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বড় বিপদ থেকে রক্ষা পেলেন এই অভিনেতা।
অন্ধত্বের আশঙ্কা ও চিকিৎসার সংকট
কাঞ্চন মল্লিক নিজেই জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর ডান চোখে মাইনাস ৮ এবং বাম চোখে মাইনাস ৩ পাওয়ার ছিল। সম্প্রতি তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে কমতে শুরু করে। বিভিন্ন নামী চিকিৎসককে দেখানোর পর জানা যায়, তাঁর ডান চোখের প্রকৃত পাওয়ার দাঁড়িয়েছে মাইনাস ১৮, যা স্বাভাবিক করা প্রায় অসম্ভব এবং এই অবস্থাতেই তাঁকে বাকি জীবন কাটাতে হবে। চিকিৎসকদের এমন নেতিবাচক মন্তব্যে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অভিনয় জীবন ও দৈনন্দিন চলাচলের ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছিল। দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারানোর এই আশঙ্কা অভিনেতার ব্যক্তিগত ও পেশাদার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলতে পারত।
আধুনিক চিকিৎসার সাফল্য ও নতুন জীবনের সূর্য
এই চরম সংকটের সময়ে স্ত্রী শ্রীময়ী চট্টোরাজের পরামর্শে শহরের একটি নামী বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালে যান কাঞ্চন। সেখানে চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডঃ সমর কুমার বসাক তাঁকে আশ্বস্ত করেন এবং লেজার অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির সফল প্রয়োগে কাঞ্চন মল্লিকের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ ফিরে এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে কোনো পাওয়ার নেই। এমনকি বাম চোখের পাওয়ারও কমে মাইনাস ১-এ নেমে এসেছে। এর ফলে দীর্ঘ চার দশক ধরে নাকের ওপর বহন করা চশমাটি এখন তাঁর জীবন থেকে কার্যত বিদায় নিয়েছে। এই সফল অস্ত্রোপচার কাঞ্চনের জীবনে নতুন আলো এনে দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক লেজার চিকিৎসার কার্যকারিতাকে আরও একবার প্রমাণ করল।