বড় উপহার, চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ শুরুর আগেই ৩টি রেল প্রকল্পে অনুমোদন কেন্দ্রের

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দিতে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। কলকাতায় বহুল প্রতীক্ষিত চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরুর মাহূর্তেই রাজ্যের আরও ৩টি গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্রীয় রেল মন্ত্রক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠকের পর রেলমন্ত্রীর পাঠানো তিনটি পৃথক চিঠি রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে জঙ্গলমহল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা এই রেল বিপ্লবের সুফল পেতে চলেছে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, রেলের ত্র্যহস্পর্শে গতি ফিরছে যোগাযোগের

অনুমোদিত প্রকল্পগুলির মধ্যে উত্তরবঙ্গের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিউ জলপাইগুড়ি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত ৭.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন ডবল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই ডবল লাইনের ফলে উত্তরবঙ্গ তথা সামগ্রিক উত্তর-পূর্ব ভারতের রেল যোগাযোগ আরও মসৃণ ও দ্রুতগতির হবে, যা দীর্ঘদিনের ট্রাফিক জটলা থেকে মুক্তি দেবে এই রুটকে।

অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ১৮০৬১/১৮০৬২ সাঁতরাগাছি-খড়্গপুর এক্সপ্রেসকে এবার ঝাড়গ্রামের জয়পুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের আপামর মানুষ সরাসরি কলকাতার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, যা দৈনিক যাতায়াতকারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক।

সবচেয়ে বড় চমক এসেছে পশ্চিমাঞ্চলের জন্য। দীর্ঘদিন ধরে ফাইলবন্দি থাকা শালবনি থেকে আঁড়া পর্যন্ত প্রায় ১০৭ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেললাইন প্রকল্পের কাজের প্রথম ধাপে অনুমোদন মিলেছে। এই লাইনের ডিটেলড প্রোজেক্ট রিপোর্ট (ডিপিআর) তৈরির লক্ষ্যে ‘ফাইনাল লোকেশন সার্ভে’র কাজ দ্রুত শুরু করার সবুজ সংকেত দিয়েছেন রেলমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক বিকাশ ও শিল্পের নতুন দিগন্ত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের এই জোড়া সিদ্ধান্তের দূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে চলেছে রাজ্যের অর্থনীতিতে। শালবনি-আঁড়া নতুন রেলপথ চালু হলে পশ্চিমাঞ্চলের খনিজ ও শিল্প পণ্য পরিবহণ অনেকটাই সহজ হবে, যা নতুন শিল্পায়নের পথ প্রশস্ত করবে। পণ্যবাহী ট্রেনের গতি বাড়লে কমবে পরিবহণ খরচও। পাশাপাশি, জঙ্গলমহলের প্রান্তিক মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও যাতায়াতের এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হবে।

চিংড়িঘাটায় কাটল জট, পুজোর আগেই মেট্রো?

রেলের এই ত্রিমুখী উপহারের আবহেই আজ রাত ৮টা থেকে শুরু হচ্ছে চিংড়িহাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ। জমি জট এবং পূর্বতন রাজ্য সরকারের ট্রাফিক অনুমতির আপত্তিতে এতদিন থমকে ছিল ৩১৬ বর্গমিটার অংশের এই কাজ। বাইপাসের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় আশা করা হচ্ছে, আগামী পুজো কিংবা বড়দিনের আগেই সল্টলেক ও ইএম বাইপাসের এই সংযোগকারী রুটে গড়াতে পারে মেট্রোর চাকা। সব মিলিয়ে, কলকাতার যানজট মুক্তি এবং গ্রামীণ বাংলার রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন—উভয় ক্ষেত্রেই এক বড়সড় গতি পেল পশ্চিমবঙ্গ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *