অবশেষে শ্রীঘরে বাগুইআটির তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ, তোলাবাজি রুখতে ‘অ্যাকশনে’ পুলিশ

তোলাবাজি এবং প্রোমোটারকে মারধরের পুরোনো ও নতুন একাধিক গুরুতর অভিযোগে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন বিধাননগর পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ওরফে চিন্টু। শুক্রবার বাগুইআটি থানার পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘদিনের ফেরার থাকা এবং ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টার পর, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে এই প্রভাবশালী কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারির ঘটনাটি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।

অপরাধের খতিয়ান ও পুরোনো দৌরাত্ম্য

সমরেশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে এলাকায় তোলাবাজি, ভয় দেখানো এবং দাদাগিরির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। প্রায় দুই বছর আগে দাবিমতো তোলাবাজির টাকা না পেয়ে এক প্রোমোটারকে নৃশংসভাবে মারধরের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময় মামলা দায়ের হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীতে তিনি থানায় আত্মসমর্পণ করে আগাম জামিন নিলেও এলাকায় তাঁর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থামেনি। এমনকি আক্রান্ত প্রোমোটারের দায়ের করা মামলাটিকে ক্ষমতার জোরে মিথ্যা প্রমাণ করার চেষ্টাও করেছিলেন বলে আদালতে খোদ অভিযোগকারী জানান। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে পুনরায় তোলাবাজির নতুন এফআইআর দায়ের হতেই পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং পুরোনো মামলার ধারা মিলিয়ে তাঁকে আইনের আওতায় আনে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও প্রশাসনের কড়া বার্তা

এই গ্রেপ্তারি শুধু একটি অপরাধমূলক ঘটনার অবসান নয়, বরং রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর গভীর প্রভাব রয়েছে। অতীতে শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে যে মামলাগুলো ধামাচাপা পড়েছিল, রাজ্যে সরকার বদল হতেই সেগুলোতে পুনরায় গতি এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিলেন যে, তোলাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে। তৃণমূল কাউন্সিলর সমরেশের এই গ্রেপ্তারির ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধ দমনে প্রশাসন এখন অনেক বেশি কড়া এবং রাজনৈতিক রং না দেখেই দুর্নীতিগ্রস্ত ও তোলাবাজদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে, অন্যদিকে অপরাধমূলক সিন্ডিকেট রাজের ওপর বড়সড় ধাক্কা লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *