পকেটে পড়তে পারে বাড়তি চাপ! হঠাৎ কেন বাসভাড়া বাড়ানোর দাবি উঠল?
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের বাজারে আগুন। লাগাতার মহার্ঘ হচ্ছে জ্বালানি তেল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমজনতার পকেটে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার এক ধাক্কায় লিটার প্রতি ৩ টাকা ১১ পয়সা দাম বেড়েছে পেট্রল ও ডিজেলের। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির পরই রাজ্যে বাসভাড়া বাড়ানোর দাবিতে পরিবহণ দপ্তরকে চিঠি দিল বেসরকারি বাসমালিক সংগঠনগুলি। শুক্রবার সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল পরিবহণ সচিবের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাড়া না বাড়লে রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়ার মতো চরম হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আট বছর অপরিবর্তিত ভাড়া ও অস্তিত্বের সংকট
বাসমালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্যে শেষবার বাসের ভাড়া বৃদ্ধি হয়েছিল ২০১৮ সালে, অর্থাৎ করোনাকালেরও দু’বছর আগে। সেই সময় বাজারে ডিজেলের দাম ছিল প্রতি লিটার ৬৮ টাকা। দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও বাসভাড়া আর এক পয়সাও বাড়েনি। অথচ বর্তমানে লাগাতার দাম বেড়ে ডিজেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৯২.০৪ টাকা। জ্বালানির দামে এই ৩৫ শতাংশ ব্যাপক বৃদ্ধি এবং সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদন সত্ত্বেও আজ পর্যন্ত ভাড়ার কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর পাশাপাশি বাসের খুচরো যন্ত্রাংশ, বীমা এবং কর্মচারীদের বেতন সহ সামগ্রিক পরিচালনা ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ফলে এই নামমাত্র ভাড়ায় পরিষেবা সচল রাখা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
কমিটির নিষ্ক্রিয়তা এবং গণপরিবহণে অচলাবস্থার আশঙ্কা
এর আগে ২০২০ এবং ২০২১ সালে ভাড়া সংশোধনের উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে বাসমালিকদের অভিযোগ, সেই কমিটিগুলির রিপোর্ট আজ পর্যন্ত সামনে আনা হয়নি এবং তার ওপর ভিত্তি করে কোনো কার্যকর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের প্রধান জীবনরেখা এই গণপরিবহণ ব্যবস্থার ওপর লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এবং হাজার হাজার বাসমালিকের জীবিকা সরাসরি নির্ভরশীল। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ন্যায্য ভাড়া কার্যকর করে এই শিল্পকে রক্ষা না করা হলে রাজ্যজুড়ে তীব্র গণপরিবহণ সংকট তৈরি হতে পারে। দাবি পূরণ না হলে অদূর ভবিষ্যতে রাস্তা থেকে বেসরকারি বাস সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাস সার্ভিসের সাধারণ সম্পাদক।