প্রতিহিংসার শিকার সোনাজয়ী অ্যাথলিট! স্বপ্নার বাড়িতে অগ্নিকাণ্ডে ঘনীভূত রহস্য

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবার এক চরম অনভিপ্রেত পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেন এশিয়াডে সোনাজয়ী অ্যাথলিট তথা তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী স্বপ্না বর্মন। শুক্রবার রাতে জলপাইগুড়ির পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোষপাড়ায় স্বপ্নার একটি পুরনো বাড়িতে আচমকাই আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বর্তমানে তীব্র চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। ঘটনার আকস্মিকতায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত সোনাজয়ী এই তারকা সংবাদমাধ্যমের সামনে কাঁদো কাঁদো গলায় আক্ষেপ করে জানান, রাজনীতিতে আসাই তাঁর জীবনের মস্ত বড় ভুল ছিল।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও হুমকির আবহ

স্বপ্না বর্মনের অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর পরিবারকে লাগাতার নিশানা করা হচ্ছিল। তাঁর দুই দাদাকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকেও মাঝেমধ্যে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হতো বলে তিনি অভিযোগ করেন। স্বপ্নার দাবি, ভোটে হেরে যাওয়ার পর রাতারাতি তাঁর পাশে থাকা বহু সমর্থক ভোল বদলে নিয়েছেন। শুক্রবার রাতে স্থানীয় এক বাসিন্দা স্বপ্নার দাদাকে ওই পুরনো বাড়িটিতে আগুন লাগার খবর দেন। তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন বাড়িটি দাউদাউ করে জ্বলছে। এই ঘটনাটিকে কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা বলেই মনে করছেন এই অ্যাথলিট।

তদন্তে পুলিশ ও দমকল

ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত তৎপরতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষপাড়ায় স্বপ্নার দুটি বাড়ির মধ্যে যেটিতে আগুন লেগেছিল, সেটি মূলত ফাঁকাই থাকত এবং সেখানে কেউ থাকতেন না। ঘরের ভেতরে কিছু জ্বালানি কাঠ ও কাগজপত্র মজুত ছিল, যা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার রাতে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আগুন বাড়ির বাইরে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি এবং বড় কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, কীভাবে ওই বন্ধ ঘরে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় শনিবার স্বপ্না বর্মন একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ প্রভাবের আশঙ্কা

ক্রীড়াজগত থেকে রাজনীতিতে পা রাখা স্বপ্নার মতো একজন হেভিওয়েট প্রার্থীর বাড়িতে এমন অগ্নিকাণ্ড এবং হুমকির ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরও যদি এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক আচরণ বা ভীতিপ্রদর্শনের রাজনীতি সচল থাকে, তবে তা সাধারণ কর্মীদের মনোবল ভাঙার পাশাপাশি এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। স্বপ্নার এই আক্ষেপ ও ক্ষোভ আগামী দিনে ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণ এবং দলের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষানীতিকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *