মার্শ-ঝড়ে কুপোকাত চেন্নাই, প্লেঅফের সমীকরণ কঠিন করে টেবিলের তলানি থেকে ঘুরে দাঁড়াল লখনউ!

চলতি আইপিএলে টিকে থাকার মরণবাঁচন ম্যাচে এক অভাবনীয় লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল ক্রিকেটপ্রেমীরা। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা লখনউ সুপার জায়ান্টস যেন প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে আরও একবার দপ করে জ্বলে উঠল। অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা চেন্নাই সুপার কিংসকে ৭ উইকেটে অনায়াসে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্লেঅফের অঙ্ককে এক ধাক্কায় জটিল করে দিল এলএসজি। এই হারের ফলে প্রথম চারে ঢোকার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেল সিএসকে।

কার্তিকের লড়াই ও চেন্নাইয়ের মাঝারি পুঁজি

শুক্রবার বিপক্ষের ঘরের মাঠে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে চেন্নাই সুপার কিংস। মন্থর পিচে রান তুলতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় টপ অর্ডারের ব্যাটারদের। সঞ্জু স্যামসন ২০ বলে ২০ রান এবং রুতুরাজ গায়কোয়াড় মাত্র ১৩ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। আগের ম্যাচের নায়ক উর্বিল পটেলও এদিন মাত্র ৬ রানে সাজঘরে ফিরলে ৫২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তীব্র চাপে পড়ে দল।

এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে চেন্নাইকে টেনে তোলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার কার্তিক। ডেওয়াল্ড ব্রেভিসকে (২৫) সঙ্গে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৭০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন তিনি। স্পিনার ও পেসারদের ওপর সমানভাবে চড়াও হয়ে কার্তিক খেলেন ৪২ বলে ৭১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। শেষ দিকে শিবম দুবের অপরাজিত ৩২ রানের ক্যামিওতে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৭ রানের লড়াকু পুঁজি খাড়া করে চেন্নাই। লখনউয়ের পক্ষে আকাশ ২৬ রানে ৩টি উইকেট নেন।

মার্শের তাণ্ডব ও পুরানের ফিনিশিং ছোঁয়া

১৮৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চেন্নাইয়ের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরাতে শুরু করেন লখনউয়ের ব্যাটাররা। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার তারকা মিচেল মার্শের রুদ্রমূর্তির সামনে কার্যত দিশেহারা হয়ে পড়েন স্পেনসার জনসন ও অংশুল কম্বোজরা। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারেই বোর্ডে ৮৬ রান তুলে নেয় লখনউ। মার্শকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে দায়িত্বশীল ৩৬ রান করেন জস ইংলিশ। এই জুটিতে ভর করে মাত্র ৭০ বলে ১৩৫ রান তোলে লখনউ।

তবে শতরানের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের শিকার হতে হয় মার্শকে। নিকোলাস পুরানের একটি সোজা শট বোলার মুকেশ চৌধুরীর আঙুল ছুঁয়ে নন-স্ট্রাইকার এন্ডের স্টাম্পে লাগলে রান আউট হন তিনি। ৩৮ বলে ৯০ রানের ইনিংস খেলে মার্শ যখন ফিরছেন, তখন ম্যাচ লখনউয়ের হাতের মুঠোয়। মাঝে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে লখনউ কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ দিকে ঋষভ পন্থকে সঙ্গে নিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন নিকোলাস পুরান। ২৪ বলে যখন ২৪ রান প্রয়োজন, তখন অংশুল কম্বোজের এক ওভারে টানা ৪টি ছক্কা হাঁকিয়ে ৭ উইকেট হাতে রেখেই লখনউয়ের জয় নিশ্চিত করেন এই ক্যারিবিয়ান তারকা।

হারের কারণ ও চেন্নাইয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

চেন্নাইয়ের এই অপ্রত্যাশিত হারের পেছনে মূল কারণ ছিল তাদের টপ অর্ডারের ব্যর্থতা এবং পাওয়ার প্লে-তে বোলারদের অতিরিক্ত রান বিলিয়ে দেওয়া। মন্থর পিচে শুরুর ব্যাটাররা ধীরগতিতে চলায় কার্তিক ও দুবে চেষ্টা করলেও দলগত স্কোর ২০০ পার করতে পারেনি। অন্যদিকে, রান ডিফেন্ড করতে নেমে লখনউয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে চেন্নাইয়ের বোলিং লাইনআপের কোনো পরিকল্পনাই কাজে আসেনি। এই পরাজয়ের ফলে চেন্নাইয়ের প্লেঅফে যাওয়ার রাস্তা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ল। এখন শেষ চারে জায়গা করে নিতে হলে বাকি ম্যাচগুলোতে শুধু জিতলেই হবে না, বরং তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর নেট রানরেট ও ফলাফলের দিকেও।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *