রাস্তা থেকে কি সত্যিই উধাও হতে চলেছে বেসরকারি বাস

রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থায় বড়সড় সংকটের মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। পেট্রোল ও ডিজেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বেসরকারি বাস মালিকরা ফের ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে বাঁচাতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে ভাড়া বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে পরিবহণ সচিবকে চিঠি দিয়েছে বাস মালিক সংগঠন ‘সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিস’। সংগঠনের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, অবিলম্বে ভাড়া না বাড়লে অদূর ভবিষ্যতে রাস্তা থেকে সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যেতে পারে বেসরকারি বাস।

জ্বালানির আকাশছোঁয়া দাম বনাম আট বছরের পুরোনো ভাড়া

বাস মালিকদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে শেষবার বাসের ভাড়া সংশোধন করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেই সময় কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ছিল ৬৮ টাকা। কিন্তু বর্তমানে ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে সেই দাম বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯২.০৪ টাকা। অর্থাৎ, বিগত কয়েক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। অথচ বাসের ভাড়ার তালিকা রয়ে গিয়েছে সেই আট বছর আগের তিমিরেই। এর পাশাপাশি ২০২০ এবং ২০২১ সালে ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার দু’টি পৃথক কমিটি গঠন করলেও, আজ পর্যন্ত সেই কমিটির রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অস্তিত্বের সংকট এবং স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রাজ্যের লাইফলাইন

জ্বালানির পাশাপাশি গত কয়েক বছরে বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, বিমার প্রিমিয়াম এবং কর্মচারীদের বেতনও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। বর্তমান ভাড়ার কাঠামোয় দৈনিক বাস চালানোর ন্যূনতম খরচ তোলাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে এই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েক লক্ষ শ্রমিক ও হাজার হাজার বাস মালিক চরম জীবনজীবিকার সংকটে পড়েছেন। খরচ সামলাতে না পেরে ইতিমধ্যেই অনেক মালিক রাস্তা থেকে বাস তুলে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

পরিবহণ খাতের এই তীব্র আর্থিক মন্দার কারণে যেকোনো সময় রাজ্যের অন্যতম প্রধান এই গণপরিবহণ ব্যবস্থা বা ‘লাইফলাইন’ স্তব্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অসুস্থ দশা থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষা করেই একটি ‘ন্যায্য ভাড়া’ নির্ধারণের জন্য প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারির আবেদন জানিয়েছে বাস মালিক সংগঠনটি। নবান্ন তথা পরিবহণ দফতর এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *