বিদেশ ভ্রমণে কর বসানোর জল্পনায় জল ঢাললেন প্রধানমন্ত্রী মোদী!
পশ্চিম এশিয়ার চলমান অস্থিরতার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ওপর চাপ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপ্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর এই পরামর্শের পরই বিভিন্ন মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয় যে, জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কেন্দ্র হয়তো এবার বিদেশযাত্রার ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বা সেস বসাতে চলেছে। তবে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিদেশ ভ্রমণে নতুন কোনো কর আরোপ করা হচ্ছে না।
গুজবের সূত্রপাত ও প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্টীকরণ
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, বিদেশ ভ্রমণে অতিরিক্ত কর আরোপের একটি প্রস্তাব নিয়ে সরকারের শীর্ষ স্তরে আলোচনা চলছে এবং এই সেস সরাসরি কেন্দ্রীয় তহবিলে যাবে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ে। তবে বিষয়টি নজরে আসতেই দ্রুত আসরে নামেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে ওই খবরটি শেয়ার করে সাফ জানান, এই খবর পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং এর মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতা নেই। বিদেশ ভ্রমণে এমন কোনো বিধিনিষেধ বা অতিরিক্ত কর আরোপের প্রশ্নই ওঠে না। প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া প্রতিক্রিয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমটি তাদের ভুল স্বীকার করে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
জ্বালানি সংকট ও কৃচ্ছ্রসাধনের প্রভাব
মূলত মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতেই কেন্দ্রীয় সরকার দেশজুড়ে সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে পেট্রল-ডিজেল কম ব্যবহারের পাশাপাশি কারপুল করা, মেট্রো ব্যবহার ও সম্ভব হলে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সরকার নিজেও এই নীতি মেনে চলছে; যেমন প্রধানমন্ত্রীর কনভয়ে গাড়ির সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এমনকি দেশের সুপ্রিম কোর্টও সপ্তাহে দুই দিন ভার্চুয়াল শুনানি ও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, এই পদক্ষেপগুলো কেবল ব্যয় সংকোচন নয়, বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি সম্পদ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ।